প্রচ্ছদ রাজনীতি

সরকার হটাতে লন্ডন থেকে নতুন ফর্মুলা এনেছেন ফখরুল

197
সরকার হটাতে লন্ডন থেকে নতুন ফর্মুলা এনেছেন ফখরুল

চুপিসারে লন্ডনে গেলেন, ফিরলেনও নীরবে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল, মঙ্গলবার সন্ধ্যায়

দেশে ফিরেছেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়ার সঙ্গে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ বৈঠক করে তিনি দেশে এলেন বলেই জানিয়েছেন দলের নেতা-কর্মীদের। কিন্তু দলের নেতাদের সুনির্দিষ্ট করে তিনি বলছেন না, কী পেলেন লন্ডন থেকে?

গতকাল দেশে ফিরেই মির্জা ফখরুল টেলিফোনে দলের কয়েকজন সিনিয়র নেতার সঙ্গে কথা বলেন। যাঁদের সঙ্গে কথা বলেছেন, তাঁদের একজন জানিয়েছেন, ‘লন্ডনে তারেক-ফখরুলের বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে দীর্ঘ বৈঠক হয়েছে।’

টেলিফোনে ফখরুল ঐ নেতাকে বলেছেন, বেগম জিয়া কারান্তরীণ হওয়ার পর দল যেভাবে চলছে তাতে তারেক সন্তুষ্ট। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনেও তারেক সম্মতি প্রকাশ করেছেন বলেও জানিয়েছেন।` ফখরুল ঐ নেতাকে বলেছেন, `তারেক জিয়া দলের ঐক্যের উপর গুরুত্ব দিয়েছেন।’

প্রকাশ্যে এসব বললেও, গোপনে ‘ফখরুল’ লন্ডন সফরের পর বেশ উল্লসিত। অনেকটা বিজয়ী ভাব। একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বিএনপি মহাসচিব নির্বাচন পর্যন্ত বিএনপির করণীয় একটি রোডম্যাপ নিয়ে তারেক জিয়ার কাছে গিয়েছিলেন। আর এই রোডম্যাপ বাস্তবায়নে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগির ফ্রি-হ্যান্ড চেয়েছিলেন। অর্থাৎ দল চালাতে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি পূর্ণ কর্তৃত্ব চেয়েছিলেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেছিলেন, ‘নির্বাচনের মাধ্যমে যদি বিএনপিকে তিনি ক্ষমতায় আনতে না পারেন, তাহলে সরে দাঁড়াবেন’। বিএনপি মহাসচিবের ঘনিষ্ঠরা বলছেন, সম্ভাব্য সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে মির্জা ফখরুল ডিসেম্বর পর্যন্ত বিএনপির রণকৌশল তৈরি করেছেন।‘সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি’ বলতে বোঝানো হয়েছে, বেগম জিয়া জেলে থাকবেন, সিনিয়র অনেক নেতাই নির্বাচন করতে পারবেন না, তারেক লন্ডনেই থাকবে।’ মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক কৌশলপত্রে ‘এরকম পরিস্থিতিতে সকল সমমনা শক্তির বৃহত্তর নির্বাচনী ঐক্য একটি আন্দোলনে রূপ নিতে পারে বলে বলা হয়েছে।’

সূত্র মতে, অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী সহ যাঁদের ব্যাপারে তারেক জিয়ার আপত্তি আছে, তাদের ব্যাপারেও বিএনপি মহাসচিব কথা বলেছেন। মির্জা ফখরুল বুঝিয়েছেন, এখন আওয়ামী লীগকে হটানোই বড় কথা। সেজন্য সবাইকে এমনকি এরশাদকেও সঙ্গে নেওয়া যেতে পারে। এজন্য ডিসেম্বর পর্যন্ত মির্জা ফখরুল তারেক জিয়াকে নিষ্ক্রিয় থাকার প্রস্তাব দিয়েছেন।

একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, তারেক জিয়া বিএনপি মহাসচিবের প্রস্তাবে রাজি হয়েছেন। বেগম জিয়া মুক্তি না পেলে, তারেক দলের নামমাত্র ‘ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। আর এসময় বিএনপিতে কায়েম হবে ‘ফখরুল তন্ত্র’। আর ঈদের ছুটিতেই বৃহত্তর ঐক্যের জন্য কাজ শুরু করবেন বিএনপি মহাসচিব।

শেয়ার

আপনার মন্তব্য করুন

Loading Facebook Comments ...