প্রচ্ছদ স্পটলাইট

লেখক-প্রকাশক শাহজাহান বাচ্চুকে ইসলামী জঙ্গিরাই হত্যা করেছে?

44
লেখক-প্রকাশক শাহজাহান বাচ্চুকে ইসলামী জঙ্গিরাই হত্যা করেছে?

ঢাকার কাছে মুন্সিগঞ্জ জেলার পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার শাহজাহান বাচ্চুকে সিরাজদিখান উপজেলায় তার গ্রামের বাড়ির

কাছে একটি দোকানের সামনে গুলি করে হত্যা করা হয়।

জেলার পুলিশ সুপার মহম্মদ জায়েদুল আলম বিবিসিকে জানিয়েছেন, ইফতারির ঠিক আগে দুটি মোটরবাইকে কয়েকজন যুবক তাকে খুব কাছ থেকে গুলি করে পালিয়ে যায়। গুলি করার আগে কয়েকটি হাতবোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।

স্থানীয় সাংবাদিক নাসিরউদ্দিন উজ্জল জানিয়েছেন, মি. বাচ্চু বামদল সিপিবির জেলা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এছাড়া সাপ্তাহিক বিক্রমপুর নামে একটি পত্রিকা অনিয়মিতভাবে প্রকাশ করতেন। ঢাকায় বিশাখা প্রকাশনী নামে তার একটি প্রকাশনা সংস্থা রয়েছে।

নাসিরউদ্দিন জানান, নিহতের এক মেয়ে তাকে বলেছেন, তার বাবা ধর্ম নিয়ে লেখালেখি করতেন বলে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে তার সন্দেহ।

পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম বলছেন, নিহতের স্ত্রী তাকে জানিয়েছেন কয়েকদিন আগে তার স্বামীকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। তবে কে বা কারা কোন কারণে এই হুমকি দিয়েছিল নিহতের স্ত্রী তা পরিষ্কার করে জানাতে পারেননি।

পুলিশ সুপার বলেন, লেখালেখির কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে কিনা তা তারা খুঁটিয়ে দেখতে শুরু করেছেন। “তার ফেসবুক পাতা দেখছি। সেখানে আমরা কিছু সুরার ব্যাখ্যা দেখেছি। কবিতা লিখেছেন তিনি। রাজনীতি নিয়ে লেখা আছে। হিন্দু দেবতা কৃষ্ণকেও নিয়েও লিখেছেন। তবে সবই ইন্টেলেকচুয়াল টাইপের। বামধারার রাজনীতিক ছিলেন তো। কিন্তু বিদ্বেষ বা উস্কানি চোখে পড়েনি।”

শাহজাহান বাচ্চুর দুই স্ত্রী। এক স্ত্রী থাকেন ঢাকায়, অন্যজন গ্রামে। পুলিশ বলছে, তিনি সাংসারিক কোন্দল বা এলাকায় কোন্দলের শিকার হয়েছেন কিনা তাও খুঁটিয়ে দেখবেন তারা। “এখনই হত্যার মোটিভ সম্পর্কে বলা যাবে না,” বলছেন এসপি জায়েদুল আলম।

ব্লগার আসিফ মহিউদ্দীনের প্রতিক্রিয়া:

প্রয়াত সহযোদ্ধা শাহজাহান বাচ্চু ভাই এই সেইদিনও মেসেজ দিয়ে জানালেন, উনার ফেইসবুক প্রোফাইলটি ম্যাস রিপোর্টের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। নতুন আইডি খুলেছেন, বন্ধু তালিকায় যেন এড করে নিই। এরপরে আবার আরেকদিন আরেকটি আইডি দিয়ে মেসেজ দিলেন। উনার প্রোফাইলের বিরুদ্ধে যেসব রিপোর্ট করা হতো, সবই ছিল ফেইক রিপোর্ট। দলবদ্ধভাবে করা। ইসলাম রক্ষার কাজে নিয়োজিত মুমিনদের দ্বারা।

মেধায় বুদ্ধিতে জ্ঞানে যুক্তিতে না পারলেও মুমিন মুসলমান সম্প্রদায় যেটা খুব ভাল পারে- তা হচ্ছে সংখ্যা দেখিয়ে কোন কাজ হাসিল করা। লক্ষ্য করলেই দেখবেন, এক একটি হাস্যকর পোস্টে কী বিপুল পরিমাণ উজবুক লাইক দেয়। সেদিন দেখলাম কোরানকে লাথি মারায় এক লোক সাপ হয়ে গেছে, এরকম একটা ছবিতে পঞ্চাশ হাজারের বেশি লাইক। আশ্চর্য লাগে, এতটা নির্বোধ কীভাবে হয়, এত অসংখ্য মানুষ একসাথে?

ফেইসবুক কর্তৃপক্ষ জানে না, বাচ্চুভাইদের মত মানুষেরা আসলে কী লেখেন। এত এত রিপোর্ট দেখে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই বেশিরভাগ সময় ব্যবস্থা নেয়া হয়। এই সুযোগটি সবসময় নেয় এই মুমিন সম্প্রদায়। এরকম চোরের মত নির্লজ্জের মত রিপোর্ট করতে এরা একটুও লজ্জিত তো হয় না, বরঞ্চ এগুলো তারা বিজয় হিসেবে মনে করে। এর আইডি মুছে দিয়ে, ওর লেখা মুছে দিয়ে তারা ভাবে, আল্লাহকে খুব রক্ষা করা গেছে। মুহাম্মদের লুঙ্গিটা শক্ত করে বেঁধে দেয়া গেছে! এখন আর খুলে যাওয়ার ভয় নেই।

কিন্তু আমার মুমিন ভাইয়েরা, ব্লগ ফেইসবুক আসার পরে আল্লাহ মুহাম্মদ এবং ইসলামের লুঙ্গি অনেক আগেই খুলে দেয়া হয়েছে। সংখ্যাধিক্য দিয়ে যতই পশ্চাতদেশ ঢাকার চেষ্টা করুন না কেন, আপনার এলাকায়, মহল্লায়, গ্রামে শহরে বন্দরে প্রতিটি জায়গায় এখন এক একজন মুক্তমনা বসবাস করেন। আপনি হয়তো জানেনও না, আপনারই ছোটভাইটি এখন চিন্তা করতে জানে। ভাবতে জানে। হয়তো আপনাকে ভয়ে বলে না, কিন্তু আপনাদের মিথ্যাচার শুনে ওরা মনে মনেই হাসে। আপনাদের গোঁজামিল শুনে নিয়ে তারা ঠাট্টাতামাসা করে। কিছু বলে না, প্রাণ হারাবার ভয়ে।

এমনকি, আপনি যেই মসজিদে নামাজ পড়েন, যার পেছনে নামাজ পড়েন, তাদের মধ্যেও অসংখ্য মানুষ আজ মুক্তচিন্তার সৈনিক। বাসায় যাওয়ার পরে ওনারাই ভিন্ন নামে ভিন্ন পরিচয়ে লেখালেখি করেন। কয়জনকে কোপাবেন? কয়জনকে থামাবেন? আমরা বাঁধ ভাঙ্গা স্রোতের মত ঢুকে যাচ্ছি। আটকে রাখতে পারবেন না। আপনি কী নিশ্চিত, যার পেছনে আজকে নামাজ পড়েছেন, সে নাস্তিক নয়?

আমি এরকম অসংখ্য ইমাম সাহেবের মেসেজ পেয়েছি। অনেক ইসলামী আলেম আমাকে বলেছেন, স্রেফ বেঁচে থাকার জন্য এখনো উনারা কিছু বলেন না। ভয় পান। অবশ্য পাগলা কুকুরকে ভয় পাওয়াই স্বাভাবিক। পাগলা কুকুরের সামনে বীরত্ব দেখাতে যাওয়া মূর্খতা এবং বোকামীর পরিচয়।

ফেইসবুক একাউন্টে রিপোর্ট করে মুছে দেয়া, এরপরে পেছন দিয়ে চাপাতি আক্রমণ করা, যুক্তির বদলে গুলি করে মেরে ফেলা, এইসব বীরের কাজ নয়। এতটুকু আত্মসম্মানবোধ থাকলে আপনারা লজ্জিত হতেন। কিন্তু এতটা আশা করা ঠিক নয়। শত হলেও আপনারা মুহাম্মদের উম্মত!

সূত্র: বিবিসি বাংলা

শেয়ার

আপনার মন্তব্য করুন

Loading Facebook Comments ...