প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয়

লেখক-প্রকাশক শাহজাহান বাচ্চুকে গুলি করে হত্যা, প্রতিবাদের ঝড়

123
লেখক-প্রকাশক শাহজাহান বাচ্চুকে গুলি করে হত্যা, প্রতিবাদের ঝড়

লেখক ও প্রকাশক শাহজাহান বাচ্চুকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। সোমবার বিকেলে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান এলাকায় তাকে

গুলি করে হত্যা করা হয় বলে জানান শাহজাহান বাচ্চুর মেয়ে ব্লগার দুর্বা জাহান।

ঢাকার বিশাখা প্রকাশনীর সত্ত্বাধিকারী শাহজাহান বাচ্চুর গ্রামের বাড়ি মুন্সীগঞ্জের বিক্রমপুরে।

জানা যায়, সোমবার বিকেলে সিরাজদিখান এলাকার একটি দোকানে বসে ছিলেন বাচ্চু। এসময় মোটরসাইকেলে করে দুইজন এসে তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়।

লেখালেখির কারণে তাকে ধর্মীয় উগ্রবাদীরা বিভিন্ন সময় হুমকি প্রদান করে বলে জানিয়েছেন বাচ্চুর স্বজনরা।

এ ব্যাপারে মুন্সিগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. জাহেদুর রহমান বলেন, শাহজাহান বাচ্চু মূলত ঢাকায় থাকতেন। মাঝেমাঝে মুন্সিগঞ্জে আসতেন। তবে এখানকার খুব বেশি মানুষের সাথে মিশতেন না। এখানে সাথে শত্রুতা ছিলো বলেও শুনিনি। ইফতারের পূর্ব মূর্হূর্তে বাজারের মধ্যেই দুটি মোটরসাইকেলে এসে তাকে গুলি করে খুনিরা পালিয়ে যায়। কারা তাকে হত্যা করতে পারে আমরা খোঁজ নিচ্ছি।

জাহেদুর বলেন, শাহজাহান বাচ্চুর লেখালেখির ব্যাপারে আমরা অবগত নই। তবে তিনি এখানে অনিয়িমতভাবে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশ করতেন। ঢাকায় তাঁর একটি প্রকাশনা সংস্থাও ছিলো। যা সম্প্রতি বন্ধ হয়ে গেছে বলে শুনেছি। আমরা সব বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছি।

আসিফ মহিউদ্দীন:

আমার বহুদিনের ফেইসবুক বন্ধু Shahzahan Bachchu ভাইকে কে বা কাহারা নাকি গুলি করে হত্যা করেছে বলে জানতে পারলাম। উনাকে বহুদিন আগে একবার সাবধান করেছিলাম, বলেছিলাম নিরাপত্তার বিষয়ে সতর্ক থাকতে। যেখানে সেখানে না যেতে। উনি আমার কথাকে পাত্তাই দেন নাই। বলেছিলেন, আরে ধুর, আমাকে কে মারবে?

এখনো পুরো ঘটনা জানি না। তবে কেন জানি মনে হচ্ছে, এর পেছনে শান্তির ধর্মের অনুসারীরা জড়িত থাকতে পারে। বাচ্চুভাই বহু পুরনো আমলের নাস্তিক, এবং একজন চিন্তাশীল মুক্তমনা মানুষ। খানিকটা পাগলাটে স্বভাবেরও। সেইসাথে, একজন দিলখোলা ভাল মানুষ। উনার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।

সেইসাথে, খুব দ্রুত উনার হত্যাকারী কারা, কী উদ্দেশ্যে এরকম ঘটনা ঘটালো, তা জানতে চাই। যদিও শেখ হাসিনার এই সরকার পরিষ্কারভাবেই বলে দিয়েছে, মুক্তচিন্তার মানুষদের তারা নিরাপত্তা দিতে পারবে না, তারপরেও প্রত্যাশাহীনভাবে প্রশাসনের কাছে জবাব চাইতেই পারি।

বাচ্চুভাই, আপনার কথা খুব মনে পরবে। আপনার পাগলামি, আপনার খ্যাপাটে স্বভাব, আপনার চিন্তাভাবনা, সব। আপনি বেঁচে থাকুন আপনার লেখার মধ্যে। সবসময়।

Paplu Bangali:

তাঁর বয়স হয়েছিলো ষাট। কিন্তু সাহস ছিলো আঠারো বছর বয়সী তরুণের। আর চিন্তা ছিলো চিরসবুজ। সাম্যবাদী সমাজের স্বপ্ন দেখতেন। ছাত্র জীবনে ছাত্র ইউনিয়ন করতেন। তারপর কমিউনিস্ট পার্টি। কবিতা লিখতেন। ‘বিশাকা’ নামে একটি প্রকাশনাও ছিলো। তাঁর প্রকাশনায় কবিতার বই ছাড়া অন্যকিছু ছাপা হতো না। এতো ভালোবাসতেন কবিতা। সব ছেড়ে দিয়ে এলাকায় ব্যবসা শুরু করলেন। কেননা কবিতা ছাপিয়ে তো আর পেট ভরবে না। ফেসবুকে কারো স্ট্যাটাসের নিচে উনি তর্ক করবে না। নিজের মতামত জানাবেন না। এইটা খুবই দূর্লভ। যা সত্য মনে করতেন পরিষ্কার বলে দিতেন। সেটা ধর্ম হোক, শেখ মুজিব হোক কিংবা হাসিনা-খালেদা-জামাত-শফি। সেই বাচ্চু ভাইকে খুন করা হলো। নিজের গ্রামের বাড়িতে। মানুষের রক্তচোষা রাষ্ট্র তাঁকেও শেষ বাঁচা বাঁচতে দিলো না।

শেয়ার

আপনার মন্তব্য করুন

Loading Facebook Comments ...