প্রচ্ছদ বিশ্ব

ট্রাম্প-কিমের বৈঠকের স্থান সিঙ্গাপুর যে কারণে

15
ট্রাম্প-কিমের বৈঠকের স্থান সিঙ্গাপুর যে কারণে

দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতর পর অবশেষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং

উনের মধ্যে বৈঠক হতে যাচ্ছে। কিন্তু অনেকে কাছে বৈঠকের স্থান নিয়ে একটা ধাঁধা রয়ে গেছে। কারও কারও মতে বৈঠকটি তো হতে পারতো উত্তর কোরিয়ার প্রতিবেশী ও আমেরিকার বন্ধুপ্রতীম দেশ দক্ষিণ কোরিয়ায়। কিন্তু না হয়ে কেন সেটা নিয়ে যাওয়া হলো সিঙ্গাপুরে, আরও নির্দিষ্ট করে বললে কেন স্যান্তোসা দ্বীপে।

রয়টার্সের খবর বলা হয়েছে, বিলাসবহুল রিসোর্ট ও দর্শনীয় দ্বীপ থাকায় অবসরের দিনগুলো মনোরম পরিবেশে কাটানোর জন্য স্যান্তোসা দ্বীপের কোনো তুলনা নেই। কিন্তু ট্রাম্প ও কিমের মধ্যে বৈঠকের এই স্থানটি নির্ধারণ করা হয়েছে মূলত স্মার্ট নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে।

নিউজ ডট কম এইউয়ের খবরে বলা হয়েছে, স্যান্তোসা দ্বীপের সঙ্গে সিঙ্গাপুরের মূল ভূখণ্ডে প্রবেশের মাত্র একটি সংযোগ সেতু রয়েছে। যে কারণে ট্রাম্প ও কিমের বৈঠকের একটি আদর্শ স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

চ্যানেল নিউজ এশিয়ার খবর বলা হচ্ছে, নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে স্যান্তোস এই ধরনের বৈঠকের জন্য আকর্ষণীয়। এর কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, একটি ছোট জায়গা পরিচালনা করা অনেক সহজ এবং চাইলে আপনি খুব সহজেই পুরো দ্বীপটি বন্ধ করে দিতে পারেন। এছাড়া প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে পরিপূর্ণ থাকায় এটা কেবল নিরাপদ স্থানই নয়, পরিবার-পরিজন নিয়ে সময় কাটানোর জন্য একটা উপভোগ্য স্থানও।

প্রসঙ্গত, আগামীকাল মঙ্গলবার সিঙ্গাপুরের ‘স্যান্তোষা’ দ্বীপের কাপেল্লা হোটেলে অনুষ্ঠিত হবে ট্রাম্প ও কিমের মধ্যকার সেই ঐতিহাসিক বৈঠক। কয়েক মাস ধরে দু’জনের মধ্যে উত্তেজনাকর বাক্য বিনিময়ের পর এই বৈঠকে কি ফলাফল আসে সেদিকে তাকিয়ে বিশ্ববাসী।

এক বৈঠকেই সব ঠিক হয়ে যাবে না: সিঙ্গাপুর প্রেসিডেন্ট

প্রায় তিন দশক ধরে উত্তর কোরিয়া পরমাণু কর্মসূচি চালিয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্টরা, অন্য বিশ্ব নেতারাসহ জাতিসংঘ ক্রমাগতভাবে চাপ প্রয়োগ করে গেছেন উত্তর কোরিয়াকে এটি থেকে বিরত রাখতে।

অবশেষে উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন সেটি করতে সম্মত হয়েছেন। সিঙ্গাপুরে আগামীকাল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-কিমের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এর মাধ্যমে দুই দেশের সর্বোচ্চ দুই নেতা প্রথমবার বৈঠকে বসছেন। তবে এর মাধ্যমে যে সব সমস্যার সমাধান হবে তা ভাবা থেকে দূরে থাকতে বললেন বৈঠকের আয়োজক দেশ সিঙ্গাপুরের প্রেসিডেন্ট লি সিয়েন লুং।

তিনি এও মনে করিয়ে দিয়েছেন গত বছরগুলোতে অনেক আলোচনা হয়েছে, চুক্তি হয়েছে যা ভেঙে গেছে। অবিশ্বাস ও ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে তা এক বৈঠকে শেষ হয়ে যাবে না।

তিনি বলেন, আপনি একটা বৈঠকের মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান করে ফেলতে পারবেন না। আমরা যেটা আশা করতে পারি তা হল যে বিষয়টি ইতিবাচক দিকে এগিয়ে যাচ্ছে… বিশ্বাস নির্মাণের, আরও বেশি বেশি পদক্ষেপ নেয়ার এবং এটি অব্যাহত রাখতে হবে যতক্ষণ না পর্যন্ত আমরা বলতে পারি যে ঠিক আছে, পরমাণু সমস্যা এখন ততটা গুরুতর নয় এবং পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়েছে।

উত্তর কোরিয়ার ওপর এ বছরও নতুন করে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশের নিষেধাজ্ঞাও আছে দেশটির ওপরে। এ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট লি বলেন, ‘অবশ্যই, যদি চুক্তি হয়, যদি অগ্রগতি হয়, নিষেধাজ্ঞা উঠে যাবে। আমি আশা করি আমাদের বাণিজ্যও নতুন গতি পাবে। তাদের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্য সম্পর্ক ছিল, সেটি অব্যাহত রাখার সম্ভাবনা আছে। তবে এসব করতে কিছুটা সময় লাগবে।’ সূত্র: স্ট্রেইট টাইমস

শেয়ার

আপনার মন্তব্য করুন

Loading Facebook Comments ...