প্রচ্ছদ বাংলাদেশ গ্রাম-প্রান্তর

৩টি শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসাশিক্ষক আটক

20
৩টি শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসাশিক্ষক আটক

মাগুরা মহম্মদপুর উপজেলার নহাটা পানিঘাটা হাফেজিয়া মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক হাফেজ আলাউদ্দিনকে (৩০) মাদরাসার

শিক্ষার্থীদের বলাৎকারের অভিযোগে আটক করা হয়েছে। আজ দুপুরে বলাৎকার করা ৩টি ছেলে শিশুসহ আলাউদ্দিনকে মাগুরা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আনা হয়। আলাউদ্দিনের বাড়ি সদরের চাপোল গ্রামে।

বলাৎকারের শিকার এক শিশুর বাবা অভিযোগ করেন, বেশ কিছুদিন ধরে ওই শিক্ষক গভীর রাতে এক একজন করে শিশুকে নিজ ঘরে ডেকে নিয়ে বলাৎকার করে।

এ সময় সে শিশুদের এ ঘটনা প্রকাশ করলে গলায় রক্ত উঠে মারা যাবে বলে ভয় দেখায়। কোমলমতি শিশুরা সে ভয়ে কাউকে কিছু বলতে সাহস পায়নি। গতরাতে একটি শিশুকে ডেকে নিয়ে গেলে অপেক্ষাকৃত বড় অন্য কয়েকজন শিশু তা দেখে ফেলে। এ সময় তারা স্থানীয় মুরব্বিদের ডেকে হাতেনাতে ওই শিক্ষককে আটক করলে তারা তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

এ ব্যাপারে মাগুরার পুলিশ সুপার খান মোহাম্মদ রেজওয়ান জানান, ওই মাদ্রাসা শিক্ষককে মাগুরা সদর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শিকল দিয়ে বেঁধে শিশু নির্যাতনের অভিযোগ

বাড়ির উঠানে একটি কাঁঠাল গাছ, কোমর ও হাতে শিকল পরিয়ে ওই গাছের সাথে বেঁধে এক শিশুকে নির্যাতন করা অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি গত ৯ মে শরীয়তপুর সদর উপজেলার উত্তর চন্দ্রপুর গ্রামের। নির্যাতনের শিকার ওই শিশুর নাম শামীম মোল্যা (১১)। সে ওই গ্রামের খোকন মোল্যার ছেলে। অভিযোগ উঠেছে ওই গ্রামের হালিম ব্যাপারী তার বাড়িতে চুরি করার অপবাদ দিয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

নির্যাতনের শিকার শামীম ও তার বাবা খোকন মোল্যা গত ১০ মে থেকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। শামীমের মা ফাহিমা বেগম বাদী হয়ে এ ঘটনায় সোমবার রাতে শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানায় একটি মামলা করেছেন। মামলায় হালিম ব্যাপারী, তার স্ত্রী রাহিলা বেগমসহ পাঁচ ব্যক্তিকে আসামী করেছেন। পুলিশ মঙ্গলবার মামলার দুই আসামী করম আলী ব্যাপারী ও শাহেব আলী ব্যাপারীকে গ্রেপ্তার করেছে।

পালং মডেল থানা ও স্থানীয় সূত্র জানায়, উত্তর চন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা খোকন মোল্যার ছেলে শামীম স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। পড়ালেখার পাশাপাশি সে তার বাবার সাথে ভ্যানগাড়ি চালায়।

তাদের প্রতিবেশী হালিম ব্যাপারীর বাড়িতে ২ মে চুরি হয়। হালিম ব্যাপারীর ঘরে চুরি করেছে এমন অজুহাতে ৯ মে সকালে শামীমকে ধরে আনেন হালিম ব্যাপারি ও তার স্ত্রী রাহিলা। ধরে এনে বাড়ির উঠানে গাছের সাথে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। তাকে উদ্ধার করতে তার বাবা খোকন মোল্যা গেলে তাকেও বেঁধে নির্যাতন করা হয়। সারাদিন তাদের গাছের সাথে বেঁধে রেখে নির্যাতন করা হয়।

এরপর সন্ধ্যার দিকে একটি পরিত্যক্ত ঘরের মধ্যে শামীমকে আটকে রেখে তার পেটে পাথর চাপা দেয়া হয়। খবর পেয়ে ওই এলাকতার সন্ত্রোষপুর পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ শামীম ও তার বাবাকে উদ্ধার করে। পরের দিন সকালে তাদের দু’জনকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সোমবার রাতে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় ৩০৪ নম্বর শয্যায় শুয়ে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে শিশু শামীম। তার পাশে ফ্লোরে শুয়ে আছে খোকন মোল্যা। পাশে বসে তার মা ফাহিমা বেগম কান্না করছেন।

ফাহিমা বেগম বলেন, আমরা গরিব মানুষ। ভ্যানগাড়ি চালিয়ে যা আয় হয় তা দিয়েই সংসার চলে। ওর বাবা অসুস্থ থাকলে মাঝে মাঝে শামীম ভ্যান চালায়। কিন্তু হালিম ব্যাপারী তার বাড়িতে চুরি করেছে এমন সন্দেহে আমার ছেলে ও স্বামীকে নির্দয়ভাবে মেরেছে। তারা আমার ছেলেকে মেরে ফেলার চেষ্টা করেছিল।

মামলা হওয়ার পর থেকেই গ্রাম থেকে পালিয়েছে হালিম ব্যাপারী ও তার স্ত্রী রাহিলা বেগম।মঙ্গলবার তাদের বাড়ি গিয়েও কাউকে পাওয়া যায়নি।

পালং থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হুমায়ুন কবীর বলেন, শিশু নির্যাতনের ঘটনায় করা মামলার দু‘জন আসামী গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি তিন আসামীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

শেয়ার

আপনার মন্তব্য করুন

Loading Facebook Comments ...