প্রচ্ছদ বিশ্ব

জেরুজালেমে আজান নিষিদ্ধ করল ইসরায়েল

20
জেরুজালেমে আজান নিষিদ্ধ করল ইসরায়েল

জেরুজালেমে আজান দেয়া নিষিদ্ধ করেছে ইসরায়েল। তেলআবিব থেকে জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তরের কার্যক্রম

শুরুর পর এ ঘোষণা দেয় ইসরায়েল। সোমবার জেরুজালেমে যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েলি দূতাবাস উদ্বোধন অনুষ্ঠানের সময় এ ঘোষণা দেয়া হয়। এসময় দূতাবাস উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে বহু ব্যানার প্রদর্শন করা হয়।

এদিকে সোমবার সকাল থেকে ফিলিস্তিনিরা গাজায় বিক্ষোভ করতে থাকলে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী নির্বিচারে তাদের উপর গুলি চালায়। এতে এ পর্যন্ত ৪১ ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়াও প্রায় ২০০০ জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।

সূত্র: ইয়ানি সাফাক

গাজায় ইসরায়েলের নির্বিচার গুলি, ৪৩ ফিলিস্তিনি নিহত

ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর নির্বিচার গুলিবর্ষণে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় অন্তত ৪৩ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১৬০০ ফিলিস্তিনি। নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইসরায়েলি দৈনিক হারেৎজ জানিয়েছে, ইসরায়েলি সেনাদের সরাসরি গুলিতে আহত হয়েছেন অন্তত ৪৪৮ জন। এছাড়া আরো আহত হয়েছেন প্রায় ১৬০০ জন।এদিকে টাইমস অফ ইসরায়েল গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ৪৫ জন নিহত হয়েছেন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তরের প্রতিবাদে ইসরায়েলের সীমান্তে বিক্ষোভ ডেকেছিল ফিলিস্তিনিরা। লাখো মানুষের সেই বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণের কারণ দেখিয়ে ইসরায়েলি বাহিনী গুলি ও গোলা-বারুদের আগুন ছুড়েছে।

এর আগে জেরুজালেমে মার্কিন কনস্যুলেট ভবনের ভেতরে সোমবার ছোট পরিসরে অন্তর্বর্তীকালীন দূতাবাসের কার্যক্রম শুরু করছে যুক্তরাষ্ট্র। এই দূতাবাসের কার্যক্রম উদ্বোধন করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়ে ইভানকা ট্রাম্প এবং জামাতা জ্যারেড কুশনার বর্তমানে জেরুজালেমে রয়েছেন।

মার্কিন দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তর ও ইসরায়েলের দখলদারির বিরুদ্ধে পুরো সীমান্ত এলাকায় বিক্ষোভ শুরু করেছেন ফিলিস্তিনিরা। সীমান্ত বেড়া পেরিয়ে ইসরায়েলের ভেতরে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করছেন তারা।

১৯৪৮ সালের ১৫ মে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে প্রত্যেক বছর এই দিনটিকে ফিলিস্তিনিরা ‘বিপর্যয়’ বা ‘নাকাবা’ দিবস হিসেবে পালন করে। ওই বছর হাজার হাজার ফিলিস্তিনি তাদের নিজ ভূখণ্ড থেকে বিতাড়িত হয়।

একই সঙ্গে ইসরায়েলের রাজধানী তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস সরিয়ে নেয়ার বিরুদ্ধেও সোমবার প্রতিবাদ করছেন ফিলিস্তিনিরা। গত ৬ ডিসেম্বরে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে জেরুজালেমকে স্বীকৃতি দেয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

গ্রেট মার্চ অব রিটার্ন আন্দোলনের অংশ হিসেবে সোমবার সকাল থেকেই অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার অত্যন্ত সুরক্ষিত সীমানা বেড়া পেড়িয়ে ইসরায়েলে ঢোকার চেষ্টা করেছেন। বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নিতে গাজায় লাখো ফিলিস্তিনি পৌঁছেছেন।

তেলআবিব থেকে মার্কিন দূতাবাস জেরুজালেমে সরিয়ে নেয়ার প্রতিবাদে পশ্চিম তীরের রামাল্লাহ ও হেবরনেও বিক্ষোভ করছেন ফিলিস্তিনিরা। জেরুজালেম থেকে উত্তরাঞ্চলের রামাল্লাহকে বিভক্তকারী কালানদিয়া সামরিক তল্লাশি চৌকির কাছেও বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন তারা।

ফিলিস্তিনিরা দীর্ঘদিন ধরে এই বিক্ষোভ করে আসছে। ১৫ মে এই বিক্ষোভ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর হাজার হাজার ফিলিস্তিনি বাস্ত্যুচুত হয়। ইসরায়েলি অবৈধ ভূমি দখলকে ফিলিস্তিনিরা বিপর্যয় হিসেবে মনে করে।

ফিলিস্তিনিরা দীর্ঘদিন ধরে তাদের নিজ ভূখণ্ড ফেরতের দাবি জানিয়ে আসছে। তবে ইসরায়েল বলছে, তাদের উচিত গাজা এবং পশ্চিম উপত্যকায় ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা।

স্থানীয় সাংবাদিক মারাম হুমাইদ কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে বলেন, ‘বিক্ষোভে যতসংখ্যক মানুষ অংশ নিয়েছেন তা নজিরবিহীন। গত সাত সপ্তাহের প্রতিবাদে এমন জনসমাবেশ দেখা যায়নি।’

গাজা উপত্যকার ২০ লাখ মানুষের ৭০ শতাংশ উদ্বাস্তু হয়ে জীবন কাটাচ্ছে। গত ৩০ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এ বিক্ষোভে ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে কমপক্ষে ৫০ ফিলিস্তিনি মারা গেছেন। এছাড়া আহত হয়েছে আরো অন্তত সাড়ে ৮ হাজার।

শেয়ার

আপনার মন্তব্য করুন

Loading Facebook Comments ...