প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয়

খুলনা সিটি নির্বাচন: মঞ্জুর অভিযোগের সত্যতা মেলেনি

83
খুলনা সিটি নির্বাচন: মঞ্জুর অভিযোগের সত্যতা মেলেনি

খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনের ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপির কোনো এজেন্ট ঢুকতে দেওয়া হয়নি বলে দলটির

মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুর করা অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। আজ মঙ্গলবার সরেজমিনে ঘুরে ও বিএনপির এজেন্টদের সঙ্গে কথা বলে এ অভিযোগের কোনো প্রমাণ মেলেনি।

সরেজমিনে ওয়ার্ডটির লায়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজের পুরুষ কেন্দ্রে দিয়ে দেখা যায়, এই কেন্দ্রে পাঁচটি বুথের মধ্যে চারটিতেই বিএনপির এজেন্ট রয়েছে।

এ সময় বিএনপির দুই এজেন্ট সিরাজুর ইসলাম ও ওমর ফারুকের সঙ্গে কথা বলেন প্রতিবেদক। তারা বলেন, ‘ভোটগ্রহণের শুরু থেকেই আমরা অবস্থান করছি। কোনো ধরনের হুমকি কিংবা এখন পর্যন্ত কোনো চাপ প্রয়োগ করা হয়নি।’

এই কেন্দ্রের দায়িত্বরত ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা সনজিব কর্মকার বলেন, ‘একটি বুথের এজেন্ট আসেনি। এ ক্ষেত্রে আমাদের কিছুই করার নেই। তবে যারা এসেছেন তাদের উপর কোনো ধরনের চাপ নেই।’

পাশের আরেকটি নারী কেন্দ্র গিয়ে দেখা যায়, সেখানকার ছয়টি বুথের মধ্যে পাঁচটিতে বিএনপির এজেন্ট রয়েছে।

এই কেন্দ্রের দায়িত্বরত ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা মাইদুল ইসলাম বাবু জানান, একটি বুথে বিএনপির কোনো এজেন্ট আসেনি। বাকিগুলোতে তাদের যে এজেন্ট রয়েছে সেখানে কোনো ধরনের ঝামেলা নেই। সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ চলছে।

মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে নগরীর মিয়াপাড়া এলাকার রহিমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট দিয়ে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন মঞ্জু। তার অভিযোগ, ২৫ নম্বর ওয়ার্ড থেকে তার সব এজেন্ট বের করে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য কেন্দ্রে তার সমর্থক ও এজেন্টদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। তাদের চলে যেতে বলা হচ্ছে।

টানা ২১ দিনের প্রচার শেষে আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টায় মহানগরীর ভোটকেন্দ্রগুলোয় একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বিরতিহীনভাবে এই ভোটগ্রহণ হবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

বিএনপির পোলিং এজেন্টদের বের করে দেয়া হচ্ছে: মঞ্জু

খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু অভিযোগ করে বলেছেন, ‘বেশকিছু কেন্দ্র থেকে বিএনপির পোলিং এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনকে বলা হলেও কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তবে তিনি বলেন, যাই হোক না কেন নির্বাচনে আমি শেষপর্যন্ত আছি।’

মঙ্গলবার ২৭ নম্বর ওয়ার্ড রহিমা প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ছেলেকে নিয়ে ভোট দিতে এসে তিনি এসব কথা বলেন।

এদিকে আজ সকাল ৮টায় উৎসবমুখর পরিবেশে নগরীর সব ভোট কেন্দ্রে একযোগে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে এবং তা বিরতিহীনভাবে চলবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত।

উল্লেখ্য, এবার খুলনা সিটিতে মোট ভোটার ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৪৮ হাজার ৯৮৬ ও নারী ২ লাখ ৪৪ হাজার ১০৭ জন। ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা ৪ হাজার ৯৭২ জন। নির্বাচনে ভোট কেন্দ্র ২৮৯টি। এর মধ্যে ২টি কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করা হচ্ছে। এ ২টি কেন্দ্রের ১০টি বুথের ২ হাজার ৯৭৮ জন ভোটার ইভিএমে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

শেয়ার

আপনার মন্তব্য করুন

Loading Facebook Comments ...