প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয়

‘হারার পর বিএনপি কি বলবে তার রিহার্সেল চলছে’

42
‘হারার পর বিএনপি কি বলবে তার রিহার্সেল চলছে’

খুলনায় জয় দেখছে আওয়ামী লীগ। আজ মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রীদের সঙ্গে অনির্ধারিত আলোচনায়

খুলনা সিটি নির্বাচন নিয়ে আলাপ হয়। বৈঠকে অধিকাংশ মন্ত্রী অভিমত দেন যে, শেষ দিকের প্রচারণায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক জোয়ার তুলতে পেরেছে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি তো এখন থেকেই অজুহাত খুঁজছে। হারার পর বিএনপি কি বলবে, তার রিহার্সেল চলছে।’

আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যেভাবে খুলনাকে বদলে দিয়েছিলাম, তা গত পাঁচ বছরে মানুষ বুঝতে পেরেছে। বিএনপির মেয়র থাকাকালীন সময়ে খুলনায় কিছুই হয়নি। এমনকি সরকার যে টাকা দিয়েছিল তাও ফেরত এসেছে।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘জয়-পরাজয় নিয়ে আমরা ভাবি না। আমি চাই মানুষের অধিকার। মানুষ যেন তাঁর খুশি মতো ভোট দিতে পারে। আমরাই মানুষের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করেছি।’

একজন প্রবীণ মন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপিকে খুলনার মানুষ কেন ভোট দেবে? তারা তো জনগণের জন্য কিছুই করেন।’অবশ্য তাঁর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে মন্ত্রিসভার অন্য একজন সদস্য বলেন, ‘উন্নয়ন দিয়ে ভোট হয়না। খুলনায় আওয়ামী লীগ এবার জিতবে তার প্রধান কারণ আওয়ামী লীগের মধ্যে এবার কোন্দল কম।’

নির্বাচন নিয়ে বিএনপি যেন কোনো ইস্যু বানাতে না পারে সেজন্য সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী।

‘এই নির্বাচন সরকারের শেষ সুযোগ’

খুলনা সিটি নির্বাচনে জিতলে জাতীয় নির্বাচনে অংশ গ্রহণের চিন্তা করবে বিএনপি। আর হারলে আগামী সব নির্বাচন বর্জনের কঠোর অবস্থানে যাবে দলটি। আজ খুলনা সিটি নির্বাচন নিয়ে এক পর্যালোচনা বৈঠকে এরকম অবস্থানের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

দলের নয়া পল্টনের কার্যালয়ে বিকেলে এই বৈঠক হয়। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। দলের বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতা এখানে উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে খুলনা সিটি নির্বাচনে বিভিন্ন অনিয়ম, বিশেষে করে নেতাকর্মীদের ধরপাকড় প্রসঙ্গ আলোচিত হয়। নির্বাচন কমিশনের ‘পক্ষপাতিত্ব’ নিয়েও কথা বলেন কেউ কেউ। এরপরও বিএনপি এই নির্বাচনের ব্যাপারে আশাবাদী।

বিএনপির মহাসচিব মনে করেন, ‘জনগণ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার জন্য মুখিয়ে আছে।’ তাই তাঁর ভাষায়, ‘সব বাধা বিপত্তি উপেক্ষা করে জনগণ বিএনপিকেই ভোট দেবে।’

মির্জা ফখরুল ঐ আলোচনায় বলেন, ‘এই নির্বাচন সরকারের শেষ সুযোগ। এই নির্বাচন যদি শেষ পর্যন্ত সুষ্ঠু হয় তাহলে আমরা জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ভাববো। আর যদি বিএনপির জয় ছিনতাই করা হয়, তাহলে আর কোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে না। আমাদের সরকার পতনের আন্দোলনে যেতে হবে।’

আলোচনার ফাঁকেই তিনি খুলনায় মেয়র প্রার্থীসহ কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলেন।

শেয়ার

আপনার মন্তব্য করুন

Loading Facebook Comments ...