প্রচ্ছদ আইন-আদালত

খালেদা আপিল বিভাগে জামিন পেলেও মুক্তি পাওয়া সুদূরপরাহত

37
খালেদা আপিল বিভাগে জামিন পেলেও মুক্তি পাওয়া সুদূরপরাহত

কাল মঙ্গলবার সকালে সবার চোখ থাকবে খুলনা সিটি নির্বাচনের দিকে। কোটা আন্দোলন নতুন করে শুরু হওয়ায়

জনভোগান্তির আশঙ্কায় এই দিকেও থাকবে উদ্বিগ্ন দৃষ্টি।

এই দুই তাজা খবরের ভিড়ে তিনমাসের বন্দী বেগম জিয়ার জামিন প্রসঙ্গটি হয়তো বেশ বাসি। কিন্তু কথায় বলে, হাতি মরলেও লাখ টাকা। দুই বারের (বিএনপির লোকজন অবশ্য দাবি করে তিন বারের প্রধানমন্ত্রী) প্রধানমন্ত্রী ৯৬ দিন জেলে। কাল (মঙ্গলবার) তাঁর জামিনের ব্যাপারে আদেশ দেবে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। অনেক বড় খবরের ভিড়ে এটাও একটা খবর।

যদিও তাঁর দলের নেতারাই মনে করেন, আদালতে কাল জামিন পেলেও বেগম জিয়া মুক্তি পাবেন না। তাঁর বিরুদ্ধে অন্তত তিনটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি আছে। বিএনপির নেতারা আজকাল তাঁর মুক্তির আশা ছেড়ে দিয়েছেন। কিন্তু রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের কাছে আগামীকালের আদেশ অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

কাল যদি আপিল বিভাগ তাঁকে জামিন দেয়, তাহলে বেগম জিয়ার মুক্তির একটি নৈতিক ভিত্তি পাবেন। মুক্তি পান আর না পান, রাজনৈতিক অঙ্গনে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো বেগম জিয়া কি জামিন পাবেন?

গত ৮ এবং ৯ মে দুই দিন ধরে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে বেগম জিয়ার জামিন প্রশ্নে শুনানি হয়েছে। জামিনের পক্ষে বেগম জিয়ার আইনজীবীদের যুক্তি ছিল মোটামুটি তিনটি:

১. হাইকোর্ট তাঁকে জামিন দিয়েছে। এত স্বল্প সাজায় (পাঁচ বছর) হাইকোর্টের আদেশে সাধারণত আপিল বিভাগ হস্তক্ষেপ করে না।

২. বেগম জিয়া বয়স্ক এবং নারী, সর্বোপরি তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী। তিনি পালিয়ে যাবেন না, তাই জামিন দিতে বাধা নেই।

৩. বেগম জিয়া গুরুতর অসুস্থ, তাঁর সুচিকিৎসা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। জামিন দিয়ে তাঁর সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা যায়।

অন্যদিকে, জামিন না দেওয়ার পক্ষেও সরকার এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান যুক্তি তিনটি:

১. বেগম জিয়া এই মামলা দীর্ঘ দশ বছর প্রলম্বিত করেছেন। তিনি আদালতের অনুমতি ছাড়াই দীর্ঘদিন বিদেশে অবস্থান করেছেন। জামিন পেলে এই মামলা জীবনেও নিষ্পত্তি হবে না। রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য হলো, জামিন দেওয়ার পরিবর্তে হাইকোর্টে দ্রুত মামলার শুনানি হোক। কারণ জামিন পেলেই তিনি বিচারকে বাধাগ্রস্ত করবেন।

২. বেগম জিয়ার সাজা, বয়স বিবেচনা করেই কমিয়েছে অধঃস্তন আদালত। কাজেই এক সুবিধা তিনি দুবার নিতে পারেন না।

৩. বেগম জিয়ার অসুস্থতা নতুন নয়। তিনি গুরুতর অসুস্থ নন, তা কারাগারে মেডিকেল বোর্ড পরীক্ষা করে প্রমাণ পেয়েছে। তাই শারীরিক অসুস্থতার অজুহাতে তিনি জামিন পেতে পারেন না।

আদালত কোন যুক্তি গ্রহণ করবে তা বোঝা যাবে কাল। আর এই আদেশের উপর বেগম জিয়ার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে। জামিন হলে, তিনি যেমন মুক্তি এবং নির্বাচন করার একটা নৈতিক ভিত্তি পাবেন। তেমনি জামিন না পেলে, বেগম জিয়ার রাজনীতির কফিনে হয়তো শেষ পেরেক ঠোকা হবে।

শেয়ার

আপনার মন্তব্য করুন

Loading Facebook Comments ...