প্রচ্ছদ স্পটলাইট

ব্যারিস্টার মওদুদ বললেন, ‘বিএনপি এখন ভিক্ষুকের দল’

331
ব্যারিস্টার মওদুদ বললেন, ‘বিএনপি এখন ভিক্ষুকের দল’

ড. মঈন খানের সঙ্গে নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন মার্কিন দূতাবাসের কয়েকজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা। শুভেচ্ছা বিনিময়ের ফাঁকেই এক কর্মকর্তা জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমরা আসলে কি করতে চাচ্ছো?’

ড. মঈন খান পয়লা বৈশাখের আমেজে ছিলেন। প্রথমে বুঝতে পারেননি। এরপর ওই কর্মকর্তা স্পষ্ট করেই জানতে চান, বিএনপির ভবিষ্যত পরিকল্পনা কি? দলটা কি করতে চায়?’

এবার মঈন খানের চেহারায় ফুটে উঠলো হতাশা। বললেন ‘ফ্রাংকলি আই ডোন্ট নো (সত্যি বলতে কি আমি জানি না)। মার্কিন কর্মকর্তা জানতে চাইলেন কে বলতে পারবে, বিএনপি কি করবে, তার লক্ষ্য কি?

এবার ড. মঈন খান উপরের দিকে তাকালেন, তারপর উপরে ইশারা করে বললেন, ‘সম্ভবত উনি। অনলি গড ক্যান টেল।’

মার্কিন কর্মকর্তা বুঝে গেলেন। শুধু মার্কিন দূতাবাস নয়, যুক্তরাজ্য ইউরোপীয় ইউনিয়নও বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক নেতার কাছে জানতে চেয়েছে, বিএনপির পরিকল্পনা কি? তারা কি করবে? বেগম জিয়ার মুক্তি ছাড়া কি বিএনপি নির্বাচন করবে? কিন্তু বিএনপির কোনো নেতাই এর উত্তর দিতে পারেনি।

তবে ব্রিটিশ দূতাবাসের কর্মকর্তাকে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেছেন মজার তথ্য। ব্যারিস্টার মওদুদ বলেছেন, ‘বিএনপি এখন ভিক্ষুকের দল। ভিক্ষুক যেমন আজকের দিন নিয়ে ভাবে। ভবিষ্যত নিয়ে ভাবনার কোনো সুযোগ নেই তেমনি বিএনপি। আবার ভিক্ষুককে যেমন অন্যের দয়ার ওপর চলতে হয়, তেমনি বিএনপিকে চলতে হয় সরকারের দয়ায়।’

ব্রিটিশ কর্মকর্তা মওদুদের কথায় দারুণ মজা পান। ব্যারিস্টার মওদুদের বক্তব্য কূটনৈতিক পাড়ায় দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

বিএনপিকে ‘নিষিদ্ধ’ করাই শুধু বাকি!

বিএনপিকে এখন শুধু নিষিদ্ধ করতেই বাকি আছে বলে মনে করেন দলটির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। তিনি বলেন, ‘দলের চেয়ারপারসন জেলে। সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান দেশ ছাড়া। নতুন করে আর কি করবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ? এখন কেবল বিএনপিকে নিষিদ্ধ করা বাকি।’

চলমান রাজনীতি, আগামী জাতীয় নির্বাচন এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের মুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে খোলামেলা আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।

  • একদিকে জাতীয় নির্বাচনের জন্য নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে আন্দোলন অন্যদিকে স্থানীয় নির্বাচন গুলোতে সরকারের অধীনে অংশ নেয়া। অনেকের দাবি, এসব নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিএনপি সরকারের বৈধতা দিচ্ছে। এ বিষয়টি কিভাবে ব্যাখা করবেন?

বিএনপি চেয়ারপারসনই তো জেলে। সেই তুলনায় আর কি করবে? বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান দেশ ছাড়া। নতুন করে আর কি করবে? বিএনপিকে এখন নিষিদ্ধ করতে বাকি আছে। নতুনতো আর কিছু দেখি না।

বৈধতা নয়, আমরা আসলে চাচ্ছি যে দেশে একটা ভালো নির্বাচন হোক। সরকারও শিকার করছে ২০১৪ নির্বাচনের পরে। তারা একটা ভালো নির্বাচন করার জন্য সবার সঙ্গে আলোচনা করবে। সে অবস্থা থেকে তারা সড়ে গেছে বলে আমার মনে হয়েছে। দীর্ঘ সময় তারা আলোচনাটা করেনি।

বাংলাদেশে একটা ভালো নির্বাচনের জন্য দলীয় অবস্থান থেকে এটা আমরা কখনও দেখিনি। সেই ভালো নির্বাচনের জন্য আওয়ামী লীগের একটা ভালো সুযোগ আছে। ইতিহাসে গৌরবময় ভূমিকা পালনের জন্য। সেটি তারা করবে কি না সেটি তাদের ভেবে দেখতে হবে।

ক্ষমতার জন্য নাকি জনগণের জন্য তারা রাজনীতি করবে? এই বিষয়টা মাথায় নিলে আগামী দিনে গৌরবময় ভূমিকা পালনে তারা সফল হবে।

  • বিএনপির শীর্ষ আট নেতাকে দুদকে তলব করার বিষয়টি কিভাবে দেখছেন?

সরকারও চায় দুদকও চায়। ১০ বছর আগে ব্যাংকসহ অন্যান্য অবস্থা পর্যালোচনা করলে দেখা যায় এখনকার থেকে তখন অনেক ভালো ছিলো বলে বিবেচনায় আসে।

সে বিবেচনায় দুদক বর্তমান থেকে অতীতের দিকে বেশি দৃষ্টি দিয়েছে। আর তদন্ত সব সময়ই হতে পারে। কিন্তু আমরা যারা মাঠে ময়দানে রাজনীতি নিয়ে বক্তব্য দেই তাদের নিয়ে দুদকের সেটা করা উচিত নয়।

দুদকের কতগুলো বিষয়ে সিদ্ধান্তে আসা উচিত। কাজের শেষে তাদের মন্তব্য করা উচিত। সেই বিবেচনায় আমার মনে হয় এটা বিতর্কের সৃষ্টি করবে। এটা দুদকের একটু ভেবে দেখা উচিত। তাদের প্রতি মানুষের আস্তা কমে যাবে। এবং কমলে এটা জাতির জন্য দুর্ভাগ্য ছাড়া কিছু নয়।

  • খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে কোনো শঙ্কা আছে কি না?

বিএনপি চেয়ারপারসনের কোনো চিকিৎসা হচ্ছে না। জেলে আমাদের নেত্রীবৃন্দরা তার সঙ্গে ভালোভাবে দেখা করতে পারছে না। সরকারও ম্যাডামকে প্রকাশ্যে আনছে না। দেশে অনেক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান আছে, সরকারি প্রতিষ্ঠানও আছে। কিন্তু ক্ষমতাসীন এই সরকার দলের চেয়ারপারসনকে সেসব জায়গায় নেয় না। তিনি একেবারেই একা একটি নির্জন সেলে দিন কাটাচ্ছেন।

খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের পূর্ণ প্রতিষ্ঠাকারী। গণতন্ত্রের নেত্রী। তার এরকম পরিণতি বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের কাছে প্রত্যাশিত নয়। বর্তমান সরকারের ভেবে দেখা উচিত ৭৫ বছর বয়সের একজন প্রবীণ রাজনীতিবীদের সঙ্গে যে আচরণ করা হচ্ছে, সেটা ঠিক হচ্ছে কি?

  • গুঞ্জন চলছে বিএনপির একাধিক নেতা সরকারের অধীনে নির্বাচনে যেতে প্রস্তুত আছে, এ বিষয়টি কতটুকু সত্য?

বিএনপির অনেক নেতা নয়, সব নেতাই নির্বাচনের পক্ষে। দলের চেয়ারপারসনসহ। তবে কোনো অবস্থাতেই এরকম একটা দখলদার সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না বিএনপি। আমরা নির্বাচনে মানুষের ভোটের অধিকারটুকু চাচ্ছি। সংসদ নির্বাচনও কাছাকাছি সময়ে। তবে খালেদা জিয়া ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন হবে বলে এদেশের মানুষ বিশ্বাস করে না।

  • তৃণমূলের সঙ্গে বিএনপির কেন্দ্রের সম্পর্ক কেমন?

তৃণমূল দিয়েই তো বিএনপি। আগাগোড়া তৃণমূল যত ত্যাগ শিকার করে এসেছে অন্য কোনো নেতৃত্ব এতো ত্যাগ শিকার করেছে বলে মনে হয়নি। সেহেতু নিচ থেকে উপর পর্যন্ত আমরা চিন্তা করি। উপর থেকে নিচে নয়।

  • সহায়ক সরকারের রূপরেখার বিষয়ে দলের সিদ্ধান্ত কি?

খালেদা জিয়া সহসাই কারাগার থেকে বের হবেন বলে আমরা মনে করি। কোর্ট তার জামিন বিবেচনা করবে। এবং তিনি বের হলেই আমরা সহায়ক সরকারের রূপরেখা জাতির সামনে তুলে ধরব।

  • তারেক জিয়ার স্ত্রী জোবায়দা রহমানের কি দেশে আসার সম্ভাবনা রয়েছে?

তিনি আমাদের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের স্ত্রী। আমরা মনে করি তিনি যেকোনো সময়, যেকোনো প্রয়োজনে দেশে আসতেই পারেন।

  • শান্তিপূর্ণ আন্দোলন দিয়ে কি খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নিরপেক্ষ সরকারের দাবি পূরণ করা যাবে?

ঐক্যবদ্ধ মানুষ যে কত বড় শক্তি তার প্রমাণ ৬৯ গণ অভ্যুত্থান, ৯০ গণ অভ্যুত্থান। যা আমাদের ইতিহাসে জ্বল জ্বল করছে। সেহেতু শান্তিপূর্ণ আন্দোলন সবকিছুরই প্রাথমিক পর্যায়। আর শান্তিপূর্ণ আন্দোলনই আমাদের কে চুড়ান্ত বিজয়ের রাস্তা দেখাবে। অস্ত্র নিয়ে লড়াই করা সহজ কিন্তু অস্ত্র ছাড়া গণতান্ত্রিক আন্দোলন যত কঠিনই হোক এটিই বাস্তবমুখী।

  • সদ্য জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে কিছু বলার আছে কি?

আমরা যুদ্ধ করা জাতি। যে যুদ্ধে ৩০ লাখ মানুষ প্রাণ দিয়েছে। সেই জাতির গণতন্ত্র, স্বাধীনতা, মত প্রকাশ, সংগঠনের জন্য, সভা সমাবেশের অধিকার পুন:প্রতিষ্ঠার জন্য জেল খাটতে হবে! যারা রক্ত দিয়েছেন তারা হয়তো কেউ কল্পনাও করেনি। কিন্তু এটাই বাস্তব। আমার কাছে কারাগার আর কারাগারের বাইরে খুব আলাদা মনে হয় না।

আমার কাছে মনে হয়, যারা কারাগারে আছেন তারাই নিরাপদে আছেন। যারা রাস্তা, অফিস, শিক্ষাঙ্গণ এবং শিল্পাঞ্চলে থাকে তারা কতটুকু নিরাপদ? একমাত্র তারাই বলতে পারবে।

শেয়ার

আপনার মন্তব্য করুন

Loading Facebook Comments ...