প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয়

নয়াপল্টনে রিজভীর সংবাদ সম্মেলন: ‘খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ’

14
নয়াপল্টনে রিজভীর সংবাদ সম্মেলন: ‘খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ’

কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে গুরুতর অসুস্থ বলে জানিয়েছেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব

রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।

রোববার (১৫ এপ্রিল) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

রিজভী বলেন, খালেদা জিয়া অসুস্থ হলেও এখন পর্যন্ত তাঁকে কোন চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে না। সরকারি মেডিকেল বোর্ড মামুলি প্রহসনের এক্স-রে ও রক্ত পরীক্ষা করে ফিজিওথেরাপির সুপারিশ করেছে। একজন জনপ্রিয় নেত্রী যিনি দীর্ঘদিন ধরে হাঁটু ও চোখের সমস্যার পাশাপাশি তাঁকে কারাগারে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রাখায় বেশকিছু শারীরিক সমস্যা দেখা দিয়েছে। তাঁর (খালেদা জিয়া) দুই হাঁটু প্রতিস্থাপন করা হয়েছে এবং সম্প্রতি চোখের অপারেশনও হয়েছে।

এমনকি সরকারি মেডিকেলের চিকিৎসক বোর্ড বলেছে, এক্স-রে রিপোর্টগুলোতে তাঁর ঘাড়ে ও কোমরের হাড়ে সমস্যা দেখা গেছে। এমতাবস্থায় আধুনিক চিকিৎসার যুগে এমআরআইসহ উন্নত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া শুধুমাত্র এক্স-রে ও রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট সঠিক রোগ নির্ণয় সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি।

রিজভী বলেন, দেশনেত্রীকে যেদিন পিজি হাসপাতালে আনা হয়েছিল সেখানে ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের ডাকা হলেও তাদেরকে চিকিৎসাসেবার সুযোগ ও পরামর্শ নেয়া হয়নি। খালেদা জিয়াকে তিলে তিলে নিঃশেষ করার জন্যই ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে তাঁকে পরিকল্পিতভাবে সাজা দিয়ে কারাবন্দী করে এখন চিকিৎসার সুযোগও দেয়া হচ্ছে না।

তিনি বলেন, এটা জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ধ্বংস করতে বহুমুখী চক্রান্তের অংশ। কারাগারে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাথে তাঁর ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজনদের দেখা করতেও বাধা দেয়া হচ্ছে।

এসময় বিএনপির পক্ষ থেকে জিয়ার সুচিকিৎসার জন্য অতি দ্রুত তাঁর নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি জানান এবং তার ইচ্চানুযায়ী তাঁর সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে অনুরোধ করেন রিজভী।

প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ইঙ্গিত করে রিজভী বলেন, এখন জনগণ মনে করে দেশের সবচেয়ে বড় অশুভ শক্তি বর্তমান মহাজোট সরকার। ভোটারবিহীন অগণতান্ত্রিক শক্তি হচ্ছে সবচাইতে নিকৃষ্ট অশুভ শক্তি। মানুষ দিন গুনছে এই অশুভ শক্তির পতনের।

‘অশুভ শক্তি যেন আর ক্ষমতায় না আসতে পারে’ গতকাল প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন।

কারাগারে খালেদা, দেশে ফিরছেন জোবাইদা

দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কারাবরণের পর থেকে বিএনপির রাজনীতিতে চলছে নানা গুঞ্জন।

দলীয় সূত্র মতে, বর্তমান সময়ে বিএনপি একটি কঠিন সংকটকালীন সময়ের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। দল সৃষ্টির পর থেকে এরকম সংকটের আর কখনও পরেনি। বেগম খালেদা জিয়ার কারাবরণের পর থেকে দলের মধ্যে দেখা দিয়েছে একটি অস্থিরতা।

দলের চেয়ারপারসন কারাগারে ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মামলার জালে দেশের বাইরে থাকায় কেউ কেউ মনে করছেন, দলের এই ক্রান্তিকালে দলের নেতৃত্বে জোবাইদা রহমানের আসা উচিত।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের সিনিয়র ও দায়িত্বশীল এক নেতা বলেন, একটা সমাজে ভালো-মন্দ দুটোই আছে। এই মুহূর্তে বিএনপির খারাপ সময় যাচ্ছে। তবে এতে হতাশার কিছু নেই। আকাশে মেঘ চিরকাল থাকে না। মেঘ শেষে আবারো সূর্যের দেখা মেলে। বিএনপিও আজ হয়তো অন্ধকারে আছে কিন্তু সময় হলে নিশ্চয় আলোর দেখা পাবে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে জোবাইদা রহমানের দেশে ফেরার বিষয়টি কতটুকু সত্যি জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা মনে করি না এই মুহূর্তের নেতৃত্বের জন্য জোবাইদা রহমানকে দেশে আসতে হবে। তবে জোবাইদা রহমান যেহেতু জিয়া পরিবারের একজন অন্যতম সদস্য তাই সে তার শাশুড়িকে দেখতে আসতেই পারে।

দলটির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, জোবায়দা রহমান তো আমাদের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের স্ত্রী। তাই আমরা মনে করি তিনি যেকোনো সময়, যেকোনো প্রয়োজনে দেশে আসতেই পারেন।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, জোবাইদা রহমান তো জিয়া পরিবারেরই একজন সদস্য। তিনি তো বাংলাদেশেরই নাগরিক। প্রয়োজনে তিনি যেকোনো সময়ই দেশে আসতে পারেন। আর তার রাজনীতিতে আসার বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে তার পরিবার। দলীয় প্রয়োজনে তিনি রাজনীতিতে আসতে চাইলে আমরা তাকে স্বাগতম জানাবো।

ঢাকা ছাড়লেন খালেদার পুত্রবধূ ও দুই নাতনী

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান সিঁথি এবং দুই মেয়ে জাফিয়া রহমন ও জাহিয়া রহমান লন্ডনের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেছেন।

রোববার (১৫ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৮টার ফ্লাইটে তারা বাংলাদেশ ছাড়েন। গেলো ২৯ মার্চ খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে লন্ডন থেকে বাংলাদেশে আসেন কোকোর স্ত্রী এবং দুই মেয়ে।

শনিবার পহেলা বৈশাখে কারাগারে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেন জিয়া কোকার স্ত্রী শর্মিলা রহমানসহ ৭ স্বজন। ওইদিন বিকেলে পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের কারাগারে গিয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে স্বাক্ষাৎ করেন স্বজনরা।

শর্মিলা ছাড়া অন্য স্বজনরা হলেন কোকোর দুই মেয়ে জাফিয়া ও জয়া রহমান, খালেদা জিয়ার ভাই সাঈদ ইস্কেন্দারের ছেলে অভি ইস্কেন্দার এবং মামুন, মো. আলী ও ওয়াহিদুর রহমান নামের তিন জন।

কারা সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকাল ৪টা ৩৫ মিনিটে কারা কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে স্বজনরা কারাগারে প্রবেশ করেন। প্রায় দেড়ঘণ্টা পর তারা কারাগার থেকে বের হন।

এছাড়া তারা খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ)একবার এবং কারাগারে কয়েকবার সাক্ষাৎ করেন।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গত ৮ জানুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ওইদিন থেকে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন তিনি। গত ৮ এপ্রিল স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তাকে বিএসএমএমইউ-তে নেওয়া হয়েছিল।

শেয়ার

আপনার মন্তব্য করুন

Loading Facebook Comments ...