প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয়

‘ইশা’র বিরুদ্ধে এতোদিন চুপ ছিলেন কেন?

112
‘ইশা' বিরুদ্ধে এতোদিন চুপ ছিলেন কেন?

আশরাফুল আলম খোকন

কিছু নারীবাদী ব্যবসায়ী এখন বলছেন ইশা খারাপ। হলের মেয়েদের উপর অত্যাচার-নির্যাতন করত। তাই তাকে জুতার মালা

দিয়ে লাঞ্ছনা করেছে। একদল হায়েনা তার জামা-কাপড় ছিড়ে ধর্ষক রূপে আবির্ভূত হয়েছে। এই জন্য নাকি এই নারীবাদী ব্যবসায়ীগুলো ইশার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তারা এটাকে নারীর প্রতি সহিংসতা হিসাবে দেখছেন না।

যদি মেনে নেই আপনাদের কথাই সত্য, তাহলে এতোদিন বলেননি কেন? দিনের পর দিন ইশা অত্যাচার করে গেল আর আপনারা নারীবাদী ব্যবসায়ীরা চুপ করে ছিলেন? মিডিয়াতে তো কত কিছু আসে ছাত্রলীগের নেতাদের কর্মকান্ড নিয়ে, কই কোথায়ও তো ইশাকে নিয়ে কোনো সংবাদ দেখলাম না।

আসল সত্য হল, ইশার প্রতি যে বর্বর আচরণ, তা জাস্টিফাই করতেই এখন ঐসব গল্প ছড়ানো হচ্ছে।
যারা ছড়াচ্ছেন, এদের অনেকেরই অতীত-বর্তমান রেকর্ড জানি, মাইক্রোস্কোপ দিয়ে খুঁজলেও ভালো কিছু পাওয়া যাবে না।

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

৮ দিনের সফরে আজ সৌদি আরব ও যুক্তরাজ্য যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সৌদি আরব ও যুক্তরাজ্যে ৮ দিনের সরকারি সফরে রবিবার ঢাকা ত্যাগ করবেন।

প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি আজ বিকালে সৌদি আরবের দাম্মামের উদ্দেশে হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করবে।

একই দিনে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৫ মিনিটে ফ্লাইটটি দাম্মাম বাদশাহ ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছার কথা। শেখ হাসিনা ১৬ এপ্রিল সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় আল জুবাইল প্রদেশে অনুষ্ঠেয় ‘গালফ শিল্ড-১’ নামের একটি যৌথ সামরিক মহড়ার কুচকাওয়াজ ও সমাপনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।

তিনি সৌদি বাদশাহ ও দুটি পবিত্র মসজিদের হেফাজতকারী সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদের আমন্ত্রণে ওই অনুষ্ঠানে যোগদান করবেন।

সৌদি আরব উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও জোরদার করার লক্ষ্যে ২৩টি বন্ধুপ্রতিম দেশের অংশগ্রহণে মাসব্যাপী এ সামরিক মহড়ার আয়োজন করেছে।

১৮ মার্চ শুরু হওয়া এ মহড়ায় বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর ১৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল অংশ নিয়েছে।

গালফ শিল্ড-১ এর সমাপনী অনুষ্ঠানে যোগদান শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের বৈঠকে (সিএইচওজিএম) যোগদানের জন্য ১৬ এপ্রিল বিকালে একটি বিশেষ ফ্লাইটে লন্ডনের উদ্দেশে দাম্মাম ত্যাগ করবেন। ওই দিন রাতেই লন্ডনের হিথ্রো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইটটির অবতরণের কথা।

কোনো অশুভ শক্তি যেন আর ক্ষমতায় আসতে না পারে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের ঐতিহ্য, ভাষা এবং সংস্কৃতির ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টিকারী কোনো অশুভ শক্তি যাতে আর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসতে না পারে, এ ব্যাপারে সজাগ থাকতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বাঙালি, বাংলাদেশ আমাদের দেশ এবং বাংলা আমার ভাষা, বঙ্গবন্ধুর এই বক্তব্য আমাদেরকে সর্বদা স্মরণ রাখতে হবে। ফলে কোন অশুভ শক্তি যাতে আর ক্ষমতায় আসতে না পারে, এ জন্য সকলকে সজাগ থাকতে হবে। খবর বাসস

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার সকালে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে বাংলা নববর্ষ ১৪২৫ এর শুভেচ্ছা বিনিময়কালে একথা বলেন।

দেশে-বিদেশের সকল বাঙালিকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশে নববর্ষ উদযাপন একটি সার্বজনীন উৎসব। তিনি বলেন, এই উৎসবটা ধর্ম, বর্ণ, নির্বিশেষে সকলে একাত্ম হয়ে একত্রে উদযাপন করে। এমনকি প্রবাসে বসবাসকারী বাঙালিরাও উদযাপন করে। আমাদের সরকারি, বেসরকারি পর্যায়ে, সাধারণ জনগণ-সকলেই উৎসবটা উদযাপন করে। এমনকি আমাদের একদম গ্রাম পর্যায় পর্যন্তও এই উৎসব উদযাপন হয়। কারণ এখানে সকলে খুব মন খুলে একাত্ম হয়ে উদযান করতে পারে। সেই সুযোগটা সৃষ্টি হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ উৎসব উদযাপনে যত বাধাই আসুক, বাঙালি কখনো কোনো বাধা মানে না। এ জাতি বাধা ভাঙতে জানে।

শেখ হাসিনা বলেন, পৃথিবীতে অনেক দেশ আছে। সব দেশেই নববর্ষের অনুষ্ঠান হয়। কিন্তু ভাষাভিত্তিক রাষ্ট্র এই উপমহাদেশে শুধু বাংলাদেশ। কাজেই এখানে নববর্ষের উৎসব এক ভিন্ন মাত্রা লাভ করে।

তিনি এ প্রসঙ্গে বলেন, আমরা বাংলা ভাষায় কথা বলি, বাংলায় হাসি, বাংলায় কাঁদি, বাংলায় জীবন চর্চা করি।

শেখ হাসিনা বলেন, সবাই মন খুলে একাত্ম হয়ে যাতে এ উৎসব পালন করতে পারে, সেজন্য তার সরকার বৈশাখী ভাতার ব্যবস্থা করেছে। সরকারি ও বেসরকারি সেক্টরে এখন এ ভাতা চালু হয়েছে।

তিনি এদেশে অতীতে বর্ষবষণ উৎসবে নানারকম প্রতিবন্ধকতা থাকার প্রসংগ উল্লেখ করে বলেন, পাকিস্তান আমালে বাংলাদেশী সংস্কৃতি এবং মূল্যবোধের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ষড়যন্ত্র ছিল। ’৭৫ এর ১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর যারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসেছিল, তাদের অনেককেও বাঙালির বর্ষবরণে বাধা প্রদান করতে দেখা যায়।

তিনি বলেন, ‘১৯৯২ সালে আমরা ১৪০০ বঙ্গাব্দকে বরণ করতে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলাম। কিন্তু সেখানে তৎকালীন খালেদা জিয়া সরকার বাধা দেয়। আমরা কবি সুফিয়া কামালকে নিয়ে সেসব বাধা উপেক্ষা করে রমনা পার্কে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নতুন শতাব্দিকে বরণ করি।’

দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রিয় নেতৃবৃন্দ ফুলের তোড়া দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান। সাম্যবাদী দলের নেতা দিলীপ বড়ুয়া তাঁর দল এবং ১৪ দলীয় জোটের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তর ও দক্ষিণ, মহিলা আওয়ামী লীগ, ঢাকা সিটি কর্পোরেশন দক্ষিণের মেয়র, যুব লীগ, শ্রমিক লীগ, কৃষক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুব মহিলা লীগ, ছাত্রলীগ, বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদ, কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট এবং বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসেসিয়েশনের পক্ষ থেকেও প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।

মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমানের নেতৃত্বে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তারাও প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান।

অনুষ্ঠানে বাঙালি ঐতিহ্যপূর্ণ খাবার মিঠাই, মোয়া, মুড়ি-মুড়কি, মুড়লি, কদমা, জিলেপি প্রভৃতির দ্বারা অতিথিদের আপ্যায়ন করা হয়।

শেয়ার

আপনার মন্তব্য করুন

Loading Facebook Comments ...