প্রচ্ছদ বিশ্ব

জাতিসংঘের কালো তালিকায় মিয়ানমারের সেনাবাহিনী

8
জাতিসংঘের কালো তালিকায় মিয়ানমারের সেনাবাহিনী

মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে কালো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে জাতিসংঘ। রোহিঙ্গা মুসলিম নারীদের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের

অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় জাতিসংঘ এ পদক্ষেপ নিয়েছে। খবর রেডিও তেহরানের

জাতিসংঘের নতুন মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আন্তর্জাতিক চিকিৎসকদের উদ্ধৃতি দিয়ে নিরাপত্তা পরিষদে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন পেশ করেছেন।

প্রতিবেদনে তিনি বলেছেন, মিয়ানমারের সেনা সদস্যদের হাতে বেশিরভাগ রোহিঙ্গা মুসলমান নারী ও কিশোরী যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ায় তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে এবং এখন তারা অবর্ণনীয় দুঃখ-কষ্টের মধ্যে দিনাতিপাত করছে।

জাতিসংঘ মহাসচিব তার প্রতিবেদনে আরও বলেছেন, রোহিঙ্গা মুসলমানদের মধ্যে হুমকি, অবমাননা ও আতঙ্ক সৃষ্টি করার জন্য সেনা সদস্যরা ইচ্ছা করেই নারীদের ওপর যৌন নির্যাতন চালাত যাতে তারা মিয়ানমার ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয় এবং ফিরে আসার চিন্তাও করতে না পারে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোও বিভিন্ন প্রতিবেদনে মিয়ানমারের সেনা সদস্যদের হাতে রোহিঙ্গা মুসলমান নারীদের যৌন নির্যাতনের খবর তুলে ধরেছে। এমনকি কন্যা শিশুরাও ওই নির্যাতনের হাত থেকে রেহাই পায়নি বলে এসব প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো একে মানবতার বিরুদ্ধে জঘন্য অপরাধ হিসেবে অভিহিত করেছে। জাতিসংঘ যদিও অনেক দেরিতে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে কালো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে কিন্তু তারপরও এ থেকে বোঝা যায়, জাতিসংঘ অন্তত বাস্তবতা উপলব্ধি করতে পেরেছে।

এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কৌঁসুলি ফাতোউ বোম বেনসৌদা বলেছেন, রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর নির্মম গণহত্যা কোনো ছোটখাট বিষয় নয় এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের উচিত এ বিষয়ে বিচারিক তদন্ত শুরু করা।

সিরিয়ার কাছে কোনো রাসায়নিক অস্ত্র নেই: আসাদ

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আসাদ আবারও বলেছেন, তাদের কাছে কোনো রাসায়নিক অস্ত্র নেই। রাজধানী দামেস্কে কয়েকজন রুশ সংসদ সদস্যের সাথে বৈঠকে তিনি এ কথা বলেছেন। একজন রুশ সংসদ সদস্যের বরাত দিয়ে লেবাননের আল-মায়াদিন টিভি চ্যানেল জানিয়েছে, সিরিয়ার জনগণ এখন পাশ্চাত্যের সামরিক আগ্রাসনকে ভয় পায় না।

সিরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যে অত্যন্ত কার্যকর ইঙ্গ-মার্কিন-ফরাসি হামলায় তা প্রমাণিত হয়েছে বলে বাশার আসাদ মন্তব্য করেছেন।

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বলেছেন, পাশ্চাত্যের হামলার কারণে সিরিয়ার জনগণের মধ্যে ঐক্য ও দৃঢ়তা আরও বাড়বে। সিরিয়ার সরকার ও জনগণের প্রতি বিদ্বেষের কারণেই আমেরিকা, ব্রিটেন ও ফ্রান্স গতকালের হামলা চালিয়েছে বলে তিনি জানান।

শনিবার ভোরে আমেরিকা, ব্রিটেন ও ফ্রান্স সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক ও এর আশেপাশে একযোগে হামলা চালিয়েছে। তিন দেশ ১০৩ টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। এর মধ্যে ৭১টি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে সিরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

পূর্ব-গৌতার দুমা শহরে সিরিয়ার সরকারি বাহিনী রাসায়নিক হামলা চালিয়েছে বলে হামলাকারী দেশগুলো অভিযোগ করলেও দামেস্ক তা প্রত্যাখ্যান করেছে। সিরিয়া আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি জানিয়েছে। কিন্তু আমেরিকা, ফ্রান্স ও ব্রিটেন তদন্তের অপেক্ষা না করেই ওই হামলা চালিয়েছে।

শেয়ার

আপনার মন্তব্য করুন

Loading Facebook Comments ...