প্রচ্ছদ রাজনীতি

তারেককে অপসারণে আইনি লড়াই শুরু বিএনপির তারেক বিরোধীদের

146
তারেককে অপসারণে আইনি লড়াই শুরু বিএনপির তারেক বিরোধীদের

তারেক জিয়াকে বিএনপি থেকে অপসারণের আইনি লড়াইয়ে নামছেন দলটিরই কয়েকজন নেতা। তাঁরা বলছেন, মানি লন্ডারিং

মামলায় দণ্ডিত হওয়ায় তারেক জিয়া বিএনপির প্রাথমিক সদস্য থাকতে পারবেন না।

একই সঙ্গে তারা, বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৭ ধারা রহিত করার বৈধতাও চ্যালেঞ্জ করছেন। বিএনপির অন্তত এক ডজন নেতা এ ব্যাপারে দুজন সিনিয়র আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলেছেন। এদের মধ্যে অন্তত একজন স্থায়ী কমিটির সদস্য, দুজন উপদেষ্টা এবং একজন ভাইস চেয়ারম্যান রয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে, বিএনপির আইনি উদ্যোগ গ্রহণকারীদের একজন বলেছেন, ‘জিয়ার আদর্শ রক্ষায় এবং বিএনপিকে বাঁচাতেই তারা আইনের পথ বেছে নিয়েছেন।’

ওই নেতা বলেন, ‘দলীয় ফোরামে তারেক জিয়া এবং বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কেউই কথা বলতে সাহস পায় না। এই জন্যই আমরা আদালতের আশ্রয় নিচ্ছি।

গত ২ ফেব্রুয়ারি বিএনপি আকস্মিকভাবে দলের গঠনতন্ত্রের ৭ ধারা রহিত করে। সংশোধিত গঠনতন্ত্র তারা নির্বাচন কমিশনেও জমা দেয়। গঠনতন্ত্রের ৭ ধারায় বলা হয়েছে, ‘দুর্নীতিবাজ বা দুর্নীতির দায়ে দণ্ডিত কেউ বিএনপির কোনো কমিটিতে থাকতে পারবে না।’

বিএনপির একাংশ বলছে, গঠনতন্ত্রের এই সংশোধনী বৈধ পন্থায় করা হয়নি। এ ধরনের সংশোধনের জন্য জাতীয় কাউন্সিল লাগবে। তাঁদের যুক্তি হলো, এই সংশোধনী বিএনপির মৌলিক স্তম্ভ ১৯ দফার পরিপন্থী। কারণ ১৯ দফার অন্যতম দফা হলো ‘দুর্নীতিকে প্রশ্রয় না দেওয়া।’

আইনি লড়াইয়ে তাদের প্রধান যুক্তি হলো, গঠনতন্ত্র ৭ ধারা বাতিল হলেও, ১৯ দফা বাতিল হয়নি। কাজেই ১৯ দফা বহাল থাকা অবস্থায় তারেক জিয়া দলের নেতৃত্বে থাকতে পারেন না।

তাঁদের বক্তব্য হলো, তারেক জিয়ার দলীয় পদে থাকা সংবিধানেরও পরিপন্থী। কারণ, তারেক দণ্ডিত হওয়ায় এখন নির্বাচনের অযোগ্য। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অযোগ্য কোন ব্যক্তি দলীয় প্রধানের পদে থাকতে পারেন না।

তারা এ ব্যাপারে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক এক রায়কে সামনে রাখছেন। পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি এক রায়ে, মুসলীম লীগের সভাপতি নওয়াজ শরীফকে দলীয় প্রধানের পদে অযোগ্য ঘোষণা করেন। সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের সূত্র ধরেই বাংলাদেশ ও বিএনপির কয়েকজন তারেককে দল থেকে অপসারণের এই উদ্যোগ নিয়েছে।

জানা গেছে, প্রথমে তারা তারেক জিয়াকে একটি উকিল নোটিশ পাঠাবে। এর সন্তোষজনক জবাব না পেলে তারা আদালতে যাবে।

শেয়ার

আপনার মন্তব্য করুন

Loading Facebook Comments ...