প্রচ্ছদ রাজনীতি

ফোন কল নিয়ে মির্জা ফখরুলের কেনো লুকোচুরি?

128
ফোন কল নিয়ে মির্জা ফখরুলের কেনো লুকোচুরি?

দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন চলছে। বিএনপি মহাসচিবও উপস্থিত। বিএনপির যুগ্মমহাসচিব সংবাদ সম্মেলনের

জন্য লিখিত বক্তব্য তৈরি করেছেন। সেটি রিজভী দিলেন দলের মহাসচিবকে। মহাসচিব মির্জা ফখরুল সহ সিনিয়র নেতারা কর্মসূচি ঠিক করছিলেন।

একটি বিক্ষোভ মিছিল করার কর্মসূচি চূড়ান্ত হচ্ছিল। হঠাৎই বিএনপি মহাসচিবের ফোন বেজে উঠল। সংবাদ সম্মেলনের পয়েন্ট নোট করতে ব্যস্ত বিএনপির মহাসচিব ফোনটা ধরলেন না। দুমিনিট পর আবার ফোন বেজে উঠল। এবার তিনি ভালো করে তাকিয়ে ফোনটা ধরলেন। ধরেই তিনি একাকী স্থান খুঁজলেন। চারপাশে নেতাকর্মীদের ভিড়। উপায় না দেখে টয়লেটের ঢুকে গেলেন বিএনপি মহাসচিব।

বেরিয়ে এসে বললেন, ‘বিক্ষোভ আপাতত থাক; আমরা আরেকটা জনসভার তারিখ দেই।‘ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ জানতে চাইলেন, ‘কার ফোন?’

মির্জা ফখরুল ব্যস্ততার ভঙ্গিতে প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গেলেন। সবাই বুঝলো এটা তারেক জিয়ার ফোন না। কারণ, তারেক জিয়া ফোন করলে স্পিকার অন করেই কথা বলেন ফখরুল। ইদানিং এই ফোন বাড়ছে ফখরুলের। মিটিং এর মাঝখানে ফোন বাজলেই উতলা হয়ে উঠেন তিনি। একান্তে কথা বলার জন্য ছটফট করেন। দলের মধ্যে ফিসফাস, সরকারি লোকজন ফোন করে। কিন্তু মির্জা ফখরুল এ ব্যপারে একেবারে নীরব।

খালেদা বললেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ্‌’

বিকেল ৩ টার কিছু পরে বেগম জিয়া জানতে পারেন হাইকোর্ট তাঁকে জামিন দিয়েছে। একজন ডেপুটি জেলার বেগম জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁর জামিনের খবর দেন। খবর শুনে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ্‌’।

এরপর তিনি ডেপুটি জেলারের কাছে জানতে চান, ‘আমার মুক্তি কবে?’ উত্তরে ডেপুটি জেলার বলেন, ‘আমাদের কাছে জামিনের আদালতের কপি এলেই আমরা ছেড়ে দেবো। আমরা তো ম্যাডাম কাউকে মুহূর্তের বেশি আটকে রাখি না।’

এরপর বেগম জিয়া জানতে চান, ‘আজ কি কাগজ আসবে?’ জবাবে ডেপুটি জেলার তাঁর অজ্ঞতার কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘সেটা তো বলতে পারবো না, ম্যাডাম।’

বেগম জিয়ার আনন্দ সংযত হলেও তাঁর গৃহপরিচালিকা জামিনের খবরে বেশ উল্লাস প্রকাশ করেন। কারা সূত্রের খবর হলো, ফাতেমা বেগম জিয়ার কাপড়-চোপড় গোছানো শুরু করেছেন।

ডেপুটি জেলার বিদায় নেওয়ার আগে তাঁকে খালেদা জিয়া বলেন, ‘কোনো খবর পেলে আমাকে জানাবে’ সূত্রমতে, জামিনের খবর শোনার পর বেগম জিয়া দুপুরের খাবারের প্রস্তুতি শুরু করেন।’

আজ মুক্তির সম্ভাবনা কম

জিয়া অরফানেজ দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত বেগম জিয়ার জামিন হলেও আজই বেগম জিয়ার মুক্তির সম্ভাবনা কম। কারণ জামিন আদেশের কপি আজই কারাগারে পৌঁছুলে বেগম জিয়া মুক্তি পাবেন। কিন্তু আজ অফিস আওয়ারের মধ্যে এই কপি কারাগারের পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব।

দুর্নীতির দায়ে দণ্ডিত বেগম জিয়াকে চার মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন আদালত। সোমবার বেলা আড়াইটার দিকে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিম সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বেগম জিয়ার জামিন আদেশ দেন। এই রায়ের সার্টিফায়েড কপি এখন হাইকোর্টের রেজিস্টার অফিসে যাবে। রেজিস্টার আদেশের দুটি কপি করে একটি পাঠাবেন ঢাকার ডিসি অফিসে, অপরটি বিচারিক আদালতে। ডিসি অফিস আদেশের কপিটি ‘অ্যাকনলেজমেন্টে’ রাখবে। আর বিচারিক আদালত তা কারাগারে পাঠাবে।

কারাগারে জেলার জামিন আদেশের কপি পাওয়ার পর অন্য মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে কিনা তা নিশ্চিত হবেন। এই নিশ্চিতের পরই বেগম জিয়াকে কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হবে।

উল্লিখিত পুরো পক্রিয়া আজ কার্যদিবস বেলা ৫ টার মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে, যা অসম্ভব বলেই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

আর জানা গেছে, আগামীকাল মঙ্গলবার জামিন আদেশের বিরুদ্ধে চেম্বার জজ আদালতে আপিল করবে মামলার বাদী দুর্নীতি দমন কমিশন।

শেয়ার

আপনার মন্তব্য করুন

Loading Facebook Comments ...