প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয়

নেপালে বিধ্বস্ত বিমানই দুর্ঘটনায় পড়েছিল সৈয়দপুরে

36
নেপালে বিধ্বস্ত বিমানই দুর্ঘটনায় পড়েছিল সৈয়দপুরে

নেপালে বিধ্বস্ত ইউএস বাংলার বোম্বাইডার ড্যাস কিউ৪০০ (এসটু-এজিইউ) বিমানটি এর আগেও দুর্ঘটনায় পড়েছিল।

জানা যায়, ২০১৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর একবার যান্ত্রিক ত্রুটির জন্য বিমানটি রানওয়ে থেকে ছিটকে ঘাসের ওপর পড়ে। সেসময় যাত্রীরা ভয়ংকর আতঙ্কিত হলেও কর্তৃপক্ষ একটি ব্রিফ দিয়ে দায় সেরেছিল।

জানা যায়, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফটটি ২০১৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ৭৪ জন যাত্রী নিয়ে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানটি রানওয়ের এক প্রান্তে ইউটার্ন নিয়ে যখন পার্কিং বে-তে আসছিল তখন একটি চাকা আটকে যায়।

সেদিন ঢাকা থেকে দ্রুততার সঙ্গে হেলিকপ্টারযোগে ইউএস-বাংলার দক্ষ প্রকৌশলীদের নিয়ে যাওয়া হয়। কিছুক্ষণের মধ্যে প্রকৌশলীরা বিমানটি পার্কিং বে-তে ফিরিয়ে আনেন এবং ফিরতি যাত্রীদের নিয়ে যথারীতি ঢাকায় ফিরে আসে।

ঠিক প্রায় আড়াই বছর পর সেই বিমানটিই আজ নেপালে বিধ্বস্ত হলো। ঢাকা থেকে নেপালের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া বিমান সংস্থা ইউএস বাংলার ওই বিমানটি কাঠমান্ডুতে বিধ্বস্ত হয়েছে। আজ সোমবার কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি খেলার মাঠে বিধ্বস্ত হয় বিমানটি।

খবর ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের: নেপালে ইউএস বাংলার বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৫০

নেপালে রাজধানী কাঠমুন্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইউএস বাংলার বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় এ পর্যন্ত ৫০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও রয়টার্স।

জানা গেছে, ইউএস বাংলার ওই বিমানে ৬৭ জন যাত্রী এবং ৪জন ক্রু ছিলেন। এরমধ্যে ২৫ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পর ৭ জনকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

এদিকে হিমালয়ান টাইমস জানিয়েছে, বিমানটির ৩৩ জন যাত্রী নেপালের নাগরিক ছিলেন।

এসটু-এজিইউ নম্বরের ওই বিমানটি ঢাকা থেকে উড্ডয়ন করে এবং ত্রিভুবন বিমানবন্দরে দুপুর ২টা ২০ মিনিটে এটি অবতরণ করে। বিমানবন্দর ও নেপালের সেনাবাহিনী উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে।

বিমানবন্দরের মুখপাত্র প্রেম নাথ ঠাকুর বলেন, অবতরনের সময় টার্ন করতে গিয়ে ফুটবল মাঠের কাছে বিধ্বস্ত হয়।

৭ বছরে নেপালে ১৫টি বিমান বিধ্বস্ত

নেপালে গত ৭ বছরে অন্তত ১৫টি বিধ্বস্ত হয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। নেপালের জরিপ সংস্থা ‘নেপাল ইন ডাটা’ এর তথ্য মতে- ২০১০ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত এসব বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় মোট ১৩৪ জন যাত্রী নিহত হয়েছেন।

সংস্থাটি আরও দাবি করেছে, নেপালে প্রতিবছর গড়ে ছোট-বড় মিলিয়ে একটি করে বিমান দুর্ঘটনা ঘটে।

সংস্থাটির প্রকাশিত একটি গ্রাফে দেখা যায়, ২০১০ সালে ৩৬ জন, ২০১১ সালে ১৯ জন, ২০১২ সালে ৩৪ জন, ২০১৪ সালে ১৮ জন, ২০১৬ সালে ২৫ জন ও ২০১৭ সালে ২ জন বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন।

একই সঙ্গে সংস্থাটি সোমবার নেপালের কাঠমুন্ডুতে ইউএস বাংলা এয়ালাইন্সের একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়ে হতাহতের ঘটনায় শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছে।

উল্লেখ্য, ঢাকা থেকে নেপালের কাঠমান্ডুগামী ইউএস বাংলা এয়ারলাইনসের বিমান। বাংলাদেশের স্থানীয় সময় সোমবার দুপুর ৩.২০ মিনিটে কাঠমান্ডু বিমানবন্দরে অবতরণের সময় বিধ্বস্ত হয়। টার্বোপ্রপ ইঞ্জিনচালিত এই বিমানটি রানওয়ের বদলে এয়ারপোর্টের একটি ফুটবল মাঠে দাঁড়িয়ে পড়ে। ঘটনায় এখন প‌র্যন্ত ৫০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী জানা গেছে, বিমানটিতে ৩৩জন বাংলাদেশি যাত্রী ছিলেন। এছাড়া নেপালি যাত্রী ছিলেন ৩২ জন, চীনের ১জন এবং মালদ্বীপের ১ জন যাত্রী বিমানটিতে ছিলেন। এছাড়া ৪ ক্রু সহ সর্বমোট ৭১ জন যাত্রী ছিলেন বিমানটিতে। এদের মধ্যে ২৩জনকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা এখনও সুস্পষ্টভাবে জানা যায়নি।

শেয়ার

আপনার মন্তব্য করুন

Loading Facebook Comments ...