প্রচ্ছদ রাজনীতি

খালেদা জিয়ার ভাই-বোনরা বলছে, ‘তারেক নিষ্ঠুর স্বার্থপর’

209
খালেদা জিয়ার ভাই-বোনরা বলছে, ‘তারেক নিষ্ঠুর স্বার্থপর’

ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হবার মাত্র এক মাসের মধ্যে দলেই বিতর্কিত হয়ে পড়েছেন তারেক জিয়া।

দলের তৃণমূলের মধ্যে তাঁকে নিয়ে ক্ষোভ-অসন্তোষ বাড়ছে। সিনিয়র নেতারা তাঁকে নিয়ে বিরক্ত। বিএনপিপন্থী ব্যবসায়ীরা তাঁকে এড়িয়ে যেতে শুরু করেছেন।

এমনকি বেগম জিয়ার ভাই-বোনরা বলছে, ‘তারেক নিষ্ঠুর স্বার্থপর।’

১০ মার্চ শনিবার খুলনায় জনসভার আয়োজন করে বিএনপি। জনসভার আগের দিন টেলিফোনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে কথা বলেন তারেক জিয়া। তারেক টেলিফোনে ওই জনসভায় ভাষণ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। কিন্তু মির্জা ফখরুল তাঁর প্রস্তাবে সম্মত হননি।

মির্জা ফখরুল তারেক জিয়াকে জানান যে, হাইকোর্ট তাঁর বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। জনসভায় তাঁর ভাষণ প্রচার হলে, পুলিশ জনসভাই করতে দেবে না।

বিএনপির একাধিক সূত্র বলছে, তারেক এনিয়ে দলের মহাসচিবের সঙ্গে অশোভন আচরণ করলেও মির্জা ফখরুল তাঁর অবস্থানে অনড় থাকেন। ৮ ফেব্রুয়ারি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন তারেক।

বিএনপির সিনিয়র একজন নেতা বলেন, ‘মহাসচিব প্রথমে তাঁকে সামনে রেখেই দল পরিচালনা করছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা যায় তারেক রূঢ়, অশোভন এবং কর্তৃত্ব পরায়ণ।’

ওই নেতা বলেন, রাজনৈতিক দল চলে নেতা-কর্মীদের পারস্পরিক শ্রদ্ধা আর সমঝোতার ভিত্তিতে। অন্য একজন নেতা বলেন, তারেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হবার পর আমরা দলের বাইরে এবং আন্তর্জাতিক মহল থেকে সমালোচিত হয়েছি। এ কারণেই তারেক জিয়াকে আমরা সামনে আনতে চাইছি না।’

বেগম জিয়া গ্রেপ্তার হবার আগ পর্যন্ত তৃণমূলের নেতা কর্মীদের কাছে তারেক জিয়া ছিলেন বিপুল জনপ্রিয়। কিন্তু বেগম জিয়া গ্রেপ্তারের পর তারেক জিয়ার প্রতিক্রিয়া এবং আচার আচরণে তৃণমূল ক্ষুব্ধ।

তৃণমূলের একজন নেতা বলেছিলেন, ‘আমরা মনে করেছিলাম ম্যাডাম গ্রেপ্তার হবার পর ভাইয়া নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হলেও দেশে ফিরবেন। মায়ের পাশে দাঁড়াবেন। কিন্তু তিনি প্রতিক্রিয়াহীন।’

অন্য একজন নেতা বলেছেন, ‘তাঁর সঙ্গে আমার দুইদিন কথা হয়েছে। আমি তাঁর মধ্যে কোনো আবেগ, উৎকণ্ঠা দেখিনি।’

এই সব কারণে তারেক দ্রুত তৃণমূলের আস্থা হারিয়েছেন। গত এক মাসে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দ্রুত তৃণমূলের আস্থা অর্জন করেছেন।

তৃণমূলের একজন নেতা বলেছেন, ‘ফখরুল ভাই ২৪ ঘণ্টা ফোন ধরেন। বিরক্ত হন না। ভালো ভাবে কথা বলেন। সত্যিকারের নেতা তিনি।’

ঢাকায় কয়েকজন বিএনপিপন্থী ব্যবসায়ী তারেক জিয়াকে নিয়মিত টাকা দেন। এরা বেগম জিয়ার গ্রেপ্তারের পর মামলার খরচ আর আন্দোলনের খরচ মেটাতেই ব্যস্ত ছিলেন। তারেক জিয়াকে এই মুহূর্তে টাকা দেওয়ার চেয়ে আন্দোলন আর আইনি লড়াইয়ের খরচটা জরুরি বলে তাঁরা মত দিয়েছিলেন। কিন্তু তারেক তাঁদের প্রত্যেককে ফোন করে চাঁদার অংক বাড়িয়েছিলেন।

একজন ব্যবসায়ীকে তারেক বলেছিলেন, ‘আন্তর্জাতিক লবিং করতে টাকা লাগবে।’

ওই নেতা বলেন, ‘এরকম নানা অজুহাতে তিনি প্রায়ই টাকা নেন। এখন দল চালাতে হয়। এভাবে টাকা কত দিন দেওয়া সম্ভব?’

এভাবে আস্তে আস্তে বিএনপিতেই অপাংক্তেয় হয়ে উঠছেন তারেক জিয়া। দলেই অনাহুত তিনি। বিএনপির লড়াই এখন তারেক জিয়ার বিরুদ্ধেও।

শেয়ার

আপনার মন্তব্য করুন

Loading Facebook Comments ...