প্রচ্ছদ রাজনীতি

যে ফখরুল সরকারের জন্য হিরো, বিএনপির জন্য ভিলেন!

175
যে ফখরুল সরকারের জন্য হিরো, বিএনপির জন্য ভিলেন!

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে কি হিরো বানাচ্ছে সরকার? বিএনপির মধ্যে এখন এই প্রশ্ন প্রচণ্ডভাবে

আলোচিত হচ্ছে। বিএনপির একাধিক নেতার সঙ্গে আলাপ করে দেখা গেছে, মির্জা ফখরুলকেই দল ভাঙার প্রধান অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

একজন নেতা তো বলেছেন, সরকার তিল তিল করে তাঁকে পাদপ্রদীপে নিয়ে এসেছে। বিএনপির ওই নেতা বলেন, ২০১৪ সাল থেকেই বিএনপিকে টার্গেট করে একের পর এক মামলা দিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। স্বয়ং তারেক জিয়াই মনে করেন, গ্রেপ্তার করেই তাঁকে বশে আনে সরকার। গ্রেপ্তার, মুক্তি, আবার গ্রেপ্তার এভাবেই ফখরুলকে দ্বিতীয় নেতা বানিয়ে ফেলা হয়। এরপর ফখরুলকে গ্রেপ্তার করার পর আবার বিকেলে ছেড়ে দেওয়া হয়। এখান থেকেই বিএনপিতে সন্দেহ উঁকি মারে।

গত বছর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক দিনেই ১৮ মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন নিলে বিএনপিতে তারেকপন্থীরা বিশ্বাস করতে শুরু করেন যে, মির্জা ফখরুল সরকারের ইশারায় চলছে। এসময় স্বয়ং তারেক জিয়া সঙ্গে বিএনপি মহাসচিবের দূরত্ব তৈরি হয়।

বেগম জিয়া কারাবন্দি হলে তারেক জিয়া এবং মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মধ্যে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা শুরু হয়। জিয়া পরিবারের সদস্য হবার পরও দূরে থাকা এবং খারাপ ব্যক্তিগত ইমেজের কারণে পিছিয়ে পড়েছেন তারেক জিয়া। এখন মির্জা ফখরুলই বিএনপির প্রধান নেতা। বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী চেয়ারপারসন সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। এর পরই দলের ভাইস চেয়ারম্যান। বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারক সংস্থা হলো দলের স্থায়ী কমিটি। দলের মহাসচিব স্থায়ী কমিটির সদস্য হন পদাধিকার বলে। স্থায়ী কমিটিতেও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বেশ জুনিয়র। স্থায়ী কমিটিতে তাঁর অবস্থান ১৫তম।

বেগম জিয়া এবং তারেক জিয়ার পরেই বিএনপির সিনিয়র নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। এরপরই ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদের অবস্থান। তৃতীয় অবস্থানে আছেন সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার। কিন্তু এদের আড়াল করে মির্জা ফখরুলই এখন দৃশ্যত বিএনপির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সিনিয়র নেতাদের ঈষৎ অস্বস্তি সত্ত্বেও তাঁরা ফখরুলের অধীনেই চলছেন।

এর কারণ হিসেবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেন, ‘ মির্জা ফখরুল বিনয়ী, সংযত কথাবার্তা বলেন। সাধারণ মানুষের মধ্যে তাঁর একটা পরিচ্ছন্ন ইমেজ রয়েছে। একারণেই তাঁকে আমরা সামনে রেখেছি।’

কিন্তু বিএনপিতে তারেকপন্থীদের এব্যাপারে ভিন্ন মত। তারা মনে করেন, এজেন্সিগুলো পরিকল্পিত ভাবে মির্জা ফখরুলের ইমেজ বাড়িয়েছ। বার বার গ্রেপ্তার করে সাধারণ মানুষের সহানুভূতি কেড়েছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাজনীতিতে আবদুল মান্নান ভুঁইয়ার শিষ্য ছিলেন। তাঁর নিকটাত্মীয় লে. জে. (অব.) মাহাবুবুর রহমান। কাজেই শেষপর্যন্ত তিনি বেগম জিয়ার নেতৃত্বের প্রতি কতটা অটল থাকবেন, তা নিয়ে সন্দেহ আছে।

বাস্তবতা হলো কে এম ওবায়দুর রহমানের পর এই প্রথম একজন মহাসচিব বিএনপি পেয়েছি যিনি দলে প্রচণ্ড জনপ্রিয়। দলের বাইরেও তাঁর ইমেজ যথেষ্ট ভালো। মির্জা ফখরুল এখন তারেক জিয়ার অনেক সিদ্ধান্তই নাকচ করে দেন। স্থায়ী কমিটির সিংহভাগ সদস্যই তারেকের চেয়ে মির্জা ফখরুলকে বেশি পছন্দ করেন।

তাহলে মির্জা ফখরুলই কি জিয়া পরিবারের কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করবেন? তিনি কি হবেন জিয়া পরিবারের বাইরে বিএনপির প্রথম প্রধান নেতা? এজন্যই কি তাঁকে তৈরি করা হয়েছে? এজন্যই মির্জা ফখরুল তাঁর শান্তিপূর্ন কর্মসূচি সরকারের আশীর্বাদে করতে পারছেন?

শেয়ার

আপনার মন্তব্য করুন

Loading Facebook Comments ...