প্রচ্ছদ শিক্ষাঙ্গন

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ প্রশ্নফাঁসের সমাধান নয়: জাফর ইকবাল

16
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ প্রশ্নফাঁসের সমাধান নয়: জাফর ইকবাল

জনপ্রিয় লেখক ও শাহজালাল বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক ড. মুহম্মদ

জাফর ইকবাল বলেছেন, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ বা ইন্টারনেট ও ফেসবুক বন্ধ করে প্রশ্নফাঁসের সমাধান করা যাবে না। কীভাবে কারা প্রশ্নফাঁস করছে তা আগে খুঁজে বের করতে হবে। প্রশ্নফাঁসের সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে শাস্তি দিতে হবে। তা না হলে প্রশ্নফাঁস রোধ কোনভাবেই সম্ভব হবে না।

মঙ্গলবার সিলেটে বিশ্ব বেতার দিবসের অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জাফর ইকবাল এমন মন্তব্য করেছেন।

জাফর ইকবাল বলেন, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জাতীয় সংসদে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চাওয়া হয়েছে। কিন্তু এটি সঠিক সমাধান নয়। সবার আগে উচিত কোথা থেকে কারা প্রশ্নফাঁস করছে সেটি খুঁজে বের করা এবং জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করা।

তিনি আরও বলেন, এভাবে প্রশ্নফাঁস চলতে থাকলে এদেশে শিক্ষার কোনো গুরুত্ব থাকবে না। কোন শিক্ষার্থী ভালো ফলাফল করলেও তাকে আমরা ভালো বলতে পারবো না। সে হয়তো ফাঁস হওয়া প্রশ্নে পরীক্ষা দিয়ে ভালো ফলাফল করেছে। আবার ভালো ফলাফল করতে না পারা কোন শিক্ষার্থীকে আমরা খারাপও বলতে পারবো না। কারণ সে হয়তো ফাঁস হওয়া প্রশ্নের খবর পায়নি। শিক্ষা ব্যবস্থাকে রক্ষা করতে হলে সরকারকে প্রশ্নফাঁস বন্ধ করতেই হবে।

এতোদিন সরকার প্রশ্নফাঁসের বিষয়টি স্বীকার করেনি উল্লেখ করে জাফর ইকবাল বলেন, ‘প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে আমি বৃষ্টিতে ভিজে শহীদ মিনারে যখন আন্দোলন করেছি, তখন সরকার গুরুত্ব দেয়নি। প্রশ্নফাঁসের কথা স্বীকারই করতে চায়নি সরকার। এখন স্বীকার করছে সরকার। কিন্তু কার্যকর কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। ইন্টারনেট বন্ধ না করে প্রশ্নফাঁসের উৎস খুঁজলে কাজের কাজ হতো।

‘প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে এমসিকিউ তুলে দেয়া হবে’

শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী জানিয়েছেন, প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে পর্যায়ক্রমে বহু নির্বাচনী প্রশ্ন (এমসিকিউ) তুলে দেওয়া হবে।

সোমবার জাতীয় সংসদে প্রশ্ন ফাঁস ইস্যুতে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এমসিকিউ প্রশ্ন পর্যায়ক্রমে তুলে দেওয়া হবে। তাহলে প্রশ্নফাঁসের সুযোগ থাকবে না। এসময় একটি চক্র প্রশ্নফাঁস করে সরকারকে বিব্রত করার চেষ্টা করছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। ইতিমধ্যে তাদের কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এসময় সংসদে জাতীয় পার্টির নুরুল ইসলাম মিলন বলেন, পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস এখন স্বাভাবিক হয়ে গেছে। এটা নিয়ন্ত্রণের বাইরে। চরম ব্যর্থতা বলব না। মনে হয় সাহসী সৎ নিষ্ঠাবান লোক সেখানে নেই। তিনি বলেন, শিক্ষা বোর্ড দুর্নীতির আখড়া হয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। সৎ নিষ্ঠাবান লোক খুঁজে বের করে দায়িত্ব দেওয়া উচিত। কোচিং ব্যবস্থাও দায়ী। এটা চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া উচিত।

এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস রোধে বিভিন্ন কৌশল নেয়ার পরও এই পর্যন্ত সব বিষয়েরই এমসিকিউ প্রশ্ন পরীক্ষা শুরুর আগেই ফেসবুকসহ ইন্টারনেটে ফাঁস হয়েছে। এর আগে শিক্ষা সচিবও প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে এমসিকিউ তুলে দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের কড়া হুশিয়ারি এবং প্রশ্নপত্র ফাঁস করার যারা হোতা, যারা এর সঙ্গে সম্পৃক্ত সে ধরনের যারা অপরাধীদের ধরিয়ে দিতে পারলে ৫ লাখ টাকা পুরস্কারের ঘোষণাতেও রোধ করা যায়নি প্রশ্নফাঁস।

শেয়ার

আপনার মন্তব্য করুন

Loading Facebook Comments ...