প্রচ্ছদ আইন-আদালত

বিএনপির আইনজীবীদের শঙ্কা: ‘ম্যাডামের জেল, তারেকের ফাঁসি’

320
বিএনপির আইনজীবীদের শঙ্কা: ‘ম্যাডামের জেল, তারেকের ফাঁসি’

জিয়া অরফানেজ মামলার ধাক্কা সামলাতে না সামলাতেই আসছে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলার বিচার। ওই মামলার

প্রধান আসামি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া। মামলার যুক্তিতর্কও শেষ পর্যায়ে। রাষ্ট্রপক্ষ ইতিমধ্যে তার যুক্তিতর্ক শেষ করেছে। রাষ্ট্রপক্ষ এই মামলায় তারেকের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড চেয়েছে।

বিএনপির নেতৃবৃন্দ বলছেন, ‘আইনজীবীরা এই মামলাকে সিরিয়াসলি নেয়নি। মামলার প্রস্তুতিও ভালো ছিল না।’ কয়েকজন সিনিয়র নেতা সোমবার রাতে এই মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

বিএনপির একাধিক সূত্র বলছে, বিএনপির একাধিক নেতা আইনজীবীদের বক্তব্যে সন্তুষ্ট হতে পারেননি। তারা মনে করছেন, ‘এই মামলাটি প্রফেশনালি হ্যান্ডেল করা হয়নি।’ আইনজীবীদের সঙ্গে বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির গুরুত্বপূর্ণ একজন সদস্য বলেছেন, ‘ম্যাডামের জেল হয়েছে, তারেকের ফাঁসি হবে।’

বিএপির একাধিক শীর্ষ নেতা মনে করছেন, আইনি লড়াইয়ে বিএনপি যথেষ্ঠ মনোযোগী ছিল না। মামলায় আরও বেশি নজর দেওয়া উচিত ছিল। তারা মনে করছেন, এই স্পর্শকাতর মামলায় তারেকের সর্বোচ্চ শাস্তি হলে তার রাজনীতি করা কঠিন হয়ে পড়বে। একই সঙ্গে কঠিন হয়ে যাবে বিএনপির রাজনীতিও।

‘খালেদা জিয়াকে দীর্ঘমেয়াদে কারাবন্দী রাখার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ সরকার’

বাংলাদেশে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকে পুরনো একটি মামলায় গ্রেফতার দেখানোর পর তাঁকে সরকার দীর্ঘমেয়াদে কারাবন্দী রাখতে চায় বলে আশংকা করছেন দলটির নেতারা।

খালেদা জিয়াকে গত সপ্তাহে একটি দুর্নীতির মামলায় আদালত দোষী হিসেবে সাজা দেয়ার পর তিনি এখন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী।

তাঁর আইনজীবীরা এই রায়ের বিরুদ্ধে একটি আপিল মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কিন্তু রায়ের সত্যায়িত কপি এখনো পর্যন্ত না পাওয়ায় আপিল আবেদন নিয়ে এখনো বেশিদূর অগ্রসর হতে পারেন নি।

কিন্তু এরই মধ্যে তিন বছরেরও বেশি সময়ের পুরোনো কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের একটি নাশকতার মামলায় বিএনপি নেত্রীকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

তাঁর পক্ষের অন্যতম একজন আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার জানিয়েছেন, নাশকতার মামলাটির গ্রেফতারি পরোয়ানা এখন কারাগারে পাঠিয়ে খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

২০১৫ সালের শুরুতে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের টানা ৯০ দিনের অবরোধের সময় কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে একটি যাত্রীবাহী বাসে পেট্রোল বোমা হামলায় আটজন নিহত এবং অনেক মানুষ অগ্নিদগ্ধ হয়েছিল।

সেই নাশকতার মামলায় গোয়েন্দা পুলিশ চার্জশিট দিয়েছিল গত নভেম্বরে। তাতে খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামী করে মোট ৭৭ জনকে আসামী করা হয়েছিল।

সেখানকার আদালত চার্জশীট গ্রহণ করে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল।

মামলাটির তদন্তকারি এবং ডিবি পুলিশের কর্মকর্তা ফিরোজ হোসেন বলেছেন, আইন অনুযায়ী অভিযুক্ত গ্রেফতার হলে গ্রেফতারী পরোয়ানা সংশ্লিষ্ট কারাগারে পাঠিয়ে তা যুক্ত করা হয়।

বিএনপি নেত্রীর দুর্নীতির মামলার সাজার রায়ের বিরুদ্ধে তাঁর আইনজীবীরা আপিল করার প্রস্তুতি শেষ করে রেখেছেন। রায়ের সার্টিফাইড কপি ছাড়া সেই আবেদন তাঁরা করতে পারেছেন না।
তাঁরা আগামীকাল মঙ্গলবার সার্টিফাইড কপি পাওয়ার আশা করছেন।

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে পাঁচটি দুর্নীতির এবং ১১টি নাশকতার মামলাসহ মোট ৩১টি মামলা আছে। এরমধ্যে নাশকতার চারটি মামলায় কুমিল্লাসহ বিভিন্ন জায়গায় গ্রেফতারী পরোয়ানা হয়ে রয়েছে।

তাঁর অন্যতম আইনজীবী এবং বিএনপির সিনিয়র নেতা মওদুদ আহমেদ বলছিলেন, তাদের নেত্রী কারাবাস দীর্ঘায়িত করতে সরকার এখন নাশকতার মামলাগুলোতেও গ্রেফতার দেখাচ্ছে।

“নাশকতার মামলায় শোন অ্যারেস্ট দেখাচ্ছে। যাতে তাঁর কারাবাস কয়েকদিন দীর্ঘ করা যায়। এটা সরকার তাদের রাজনৈতিক কৌশল থেকে করছে।”

তবে এসব অভিযোগ মানতে রাজী নন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান।তিনি বলেছেন, আইন অনুযায়ীই বিষয়গুলো এগুচ্ছে।

“তিনি সুনির্দিষ্ট মামলায় সাজা পেয়ে জেলে গেছেনএবং অন্যান্য আরও কিছু সুনির্দিষ্ট মামলায় ইতিমধ্যে ওয়ারেন্ট ইস্যু হয়ে আছে। আমাদের কোন ইচ্ছাই নেই যে আমরা বিএনপি চেয়ারপারসন কিংবা একাধিকবার তিনি প্রাইম মিনিস্টার ছিলেন, তাঁকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার জন্য আমরা জেলখানায় নিয়ে যাব।এরকম কোন অভিপ্রায় আমাদের নেই।আদালত থেকে যে সিদ্ধান্ত হচ্ছে, আমরা সেই সিদ্ধান্ত শুধু অনুসরণ করছি।”

বিএনপি তাদের নেত্রীর মুক্তির দাবিতে রাজনৈতিক কর্মসূচিও অব্যাহত রেখেছে। সোমবার ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিএনপির নেতা কর্মিরা মানববন্ধন করেছেন।

দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকেও তাদের মানববন্ধন করার খবর পাওয়া গেছে।

শেয়ার

আপনার মন্তব্য করুন

Loading Facebook Comments ...