প্রচ্ছদ শিক্ষাঙ্গন

এবার খালেদার নাম মুছে দিল ঢাবি ছাত্রলীগ

33
এবার খালেদার নাম মুছে দিল ঢাবি ছাত্রলীগ

রাজধানী ঢাকাসহ তার আশেপাশের এলাকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য বিভিন্ন সরকারের

শাসনামলে বেশ কিছু বাস উপহার দেওয়া হয়েছিল।

এর মধ্যে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন কয়েকটি পরিবহনও উপহার দেওয়া হয়। সেগুলোতে উপহারদাতা হিসেবে ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উপহার’ লিখে দেওয়া হয়েছিল।

মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ঢাবি ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা-কর্মী ওই বাসগুলো থেকে খালেদা জিয়ার নাম মুছে ফেলেছেন। দুপুর আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

বিএনপির চেয়ারপারসনের নাম মুছে ফেলার কথা স্বীকার করেন ঢাবি শাখা ছাত্রলীগের উপ-মুক্তিযুদ্ধ সম্পাদক মাসুদ আল ইসলাম বলেন, ‘খালেদা জিয়া এতিমের টাকা আত্মসাৎকারী। তিনি আদালত স্বীকৃত দুর্নীতিবাজ। তার মতো একজন ঘৃণ্য ব্যক্তির নাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো পবিত্র ক্যাম্পাসে থাকতে পারে না। তাই আমরা তার নাম বাস থেকে মুছে ফেলেছি।’

নাম মুছে ফেলার সময় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সমাজসেবা সম্পাদক রানা হামিদ, উপদপ্তর সম্পাদক শেখ নকিবুল ইসলাম সুমন, উপপ্রচার সম্পাদক খন্দকার রবিউল ইসলাম রবি, যুগ্ম সম্পাদক সরদার আরিফুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুর রহমান উজ্জ্বল, স্যার এ এফ রহমান হল ছাত্রলীগ সভাপতি হাফিজুর রহমানসহ বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, এর আগে শনিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাজশাহী কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাইমুল হাসান নাঈমের উদ্যোগে বেগম খালেদা জিয়ার নাম মুছে দেয়া হয়। রাজশাহী কলেজে এ ঘটনা ঘটে। তবে এনিয়ে এখন পর্যন্ত বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিবাদ জানানো হয়নি।

প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন ১৯৯৩ সালে নিজের নামে একটি বাস উপহার দেন খালেদা জিয়া। সেই থেকে এ পর্যন্ত বাসটি প্রতিনিয়ত কলেজের শিক্ষার্থীদের পরিবহন করে আসছে।

বাস থেকে খালেদা জিয়ার নাম মুছে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়ার পরই সমালোচনার ঝড় উঠে।

বাস থেকে নাম মুছে দেয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন রাজশাহী কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাইমুল হাসান নাইম। তিনি বলেন, ‘আমরা রাজশাহী কলেজ ছাত্রলীগ উপর থেকে নির্দেশ না আসলে কাজ করি না। মহানগর ছাত্রলীগের নির্দেশে বাস থেকে খালেদা জিয়ার নাম মুছে ফেলা হয়েছে।’

এদিকে নাম মুছে দেয়ার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও কোনো ধরনের অভিযোগ কিংবা কলেজ কর্তৃপক্ষকে বিএনপি বা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে বিষয়টি জানানো হয়নি।

জানতে চাইলে কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মর্তুজা ফামিন বলেন, ছাত্রদল থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়নি। তবে শিগগিরই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানাব।

এদিকে বাসের নাম মুছে দেয়ার বিষয়ে জানতে কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক হাবিবর রহমানের সাথে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শেয়ার

আপনার মন্তব্য করুন

Loading Facebook Comments ...