প্রচ্ছদ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

মহাকাশে সোনার খনির সন্ধান, অভিযানের প্রস্তুতি নাসার

34
মহাকাশে সোনার খনির সন্ধান, অভিযানের প্রস্তুতি নাসার

ধনী হওয়ার সহজ উপায় বাতলে দিচ্ছে নাসা। মঙ্গল এবং বৃহস্পতি, এই দুই গ্রহের মাঝে রয়েছে একটি গ্রহাণু বলয়।

যা ভর্তি সোনা, লোহা এবং নিকেলের মতো মূল্যবান সব ধাতু দিয়ে। যার মূল্য প্রায় ৭০০ ‘কুইন্টিলন’ মার্কিন ডলার। অর্থাৎ সাতের পর কুড়িটা শূন্য।

হিসাবের নিরিখে তা এতটাই যে, পৃথিবীবাসী সাত বিলিয়ন মানুষ প্রত্যেকে আয় করে নিতে পারেন কড়কড়ে ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। সকলেই হয়ে উঠতে পারেন কোটিপতি।

এই খনন অভিযানের দায়িত্বে রয়েছে ‘ডিপ স্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ’ (ডিএসআই)। যে সংস্থার কাজই হল মহাকাশে এই ধরনের খনিজ সম্পদে পরিপূর্ণ গ্রহাণু বলয়ের অনুসন্ধান করা ও পরে সেখানে খননকাজ চালানো।

ডিএসআই ক্যালিফোর্নিয়ায় নাসার বিসনেজ পার্কে অবস্থিত। চুক্তির ভিত্তিতে কাজ করে নাসার সঙ্গে হাত মিলিয়ে। এর আগে নাসার ‘ডন’, জাপান এরোস্পেস এক্সপ্লোরেশন এজেন্সির (জেএএক্সএ) হায়াবুসা এবং ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির (ইএসএ)-র রোসেট্টা খনিজ পদার্থে ভরপুর একাধিক গ্রহাণু বলয়ে অভিযান চালিয়েছিল।

কিন্তু এই সব ক’টি অভিযানের ব্যয়নির্বাহ হয়েছিল সরকারি তহবিল থেকে। এদের থেকে প্রযুক্তি এবং কৌশলের প্রয়োগে একটু হলেও আলাদা ডিএসআই। তাদের গ্রহাণু-অভিযানে সময়, অর্থ দুইই বাঁচে। ‘অ্যাস্টেরয়েড মাইনিং’ অর্থাৎ গ্রহাণু-বলয়ে খনন অভিযান আগের তুলনায় অনেকটাই সাশ্রয়ী হয়েছে এই ডিএসআই’র কল্যাণে।

বর্তমানে চলছে সেরা ‘লোকেশন’ বাছাইয়ের কাজ। স্থান চূড়ান্ত হয়ে গেলেই বিশেষ রোবোটিক মহাকাশযান শুরু করবে সম্পদ আহরণের কাজ।

রয়্যাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির প্রেসিডেন্ট জন জারনেকির মতে, “প্রথমে এই গ্রহাণু-বলয় খনন অভিযান কল্পবিজ্ঞান মনে হলেও আজ তা পরীক্ষিত সত্য। আগামী দশকের মধ্যেই শুরু হবে অভিযান। এবার ভূগর্ভ ছেড়ে মহাকাশে খনিজের খোঁজ চালাবে মানুষ। ক্রমশ বাড়তে থাকা জনসংখ্যা ও বিপুল চাহিদা মেটাতে এবার মানব জাতির ভরসা মহাকাশই।”

মঙ্গল গ্রহ নেমে এল ওমানের মরুভূমিতে!

মহাকাশে সোনার খনির সন্ধান, অভিযানের প্রস্তুতি নাসার

মঙ্গল গ্রহ নিয়ে জল্পনা-কল্পনা-গবেষণা যেন চিরন্তন। যত দিন যাচ্ছে, তত যেন তা বেড়েই চলেছে। কারণ, মহাকাশ বিজ্ঞানীরা মনে করেন পৃথিবীর উপর চাপ কমাতে, খুব তাড়াতাড়ি অন্য গ্রহে মনুষ্য বসতি গড়ে তুলতে হবে। না হলে, বিপদ ঘটবে।

মঙ্গল গ্রহে প্রাণের প্রমাণ সঠিক ভাবে পাওয়া না গেলেও, সেখানকার আবহাওয়া যে পৃথিবীবাসীর জন্য অনুকূল, তা মেনে নিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। সেই মতো জায়গাও খোঁজা শুরু করেছে নাসার মহাকাশযান।

কিন্তু, লাল গ্রহই যদি নেমে আসে পৃথিবীর মাটিতে?
এমনিতেই গ্লোবাল ওয়ার্মিং-এর গুঁতোয় বিশ্বের তাপমাত্রা বেড়ে চলেছে প্রতি বছর। তার উপরে মঙ্গলের চাপ। কারণ, তার তাপমাত্রা প্রায় ৫১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গাছগাছালির কোনও অস্তিত্বই পাওয়া যায়নি তার মাটিতে। সব মিলিয়ে, বেশ চিন্তার ব্যাপার যে!

সম্প্রতি ২০০ এর বেশি মহাকাশ বিজ্ঞানী একজোট হয়ে বেশ কিছু পরীক্ষা চালাচ্ছেন ওমানের ধোফার মরুতে। বিশ্বের ২৫টি দেশ থেকে তাঁরা সেখানে থাকবেন একটি মাস, ফেব্রুয়ারির ১ থেকে ২৮ তারিখ পর্যন্ত।
বিজ্ঞানীদের দাবি, ধোফার মরুর এই অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি নাকি মঙ্গলের মতোই। বালি ও পাথুরে এই অঞ্চলে যদিও এখানে গুটি কয়েক প্রাণী দেখা গিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘ডেইলি মেল’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোট ১৯টি পরীক্ষা চালানো হবে এই এক মাসে।

৫০ কিলোগ্রাম ওজনের স্পেস-স্যুট পরেই মরুভূমিতে এখন ঘোরাফেরা করছেন বিজ্ঞানীরা। এই স্পেস-স্যুটের নাম দেওয়া হয়েছে ‘পার্সোনাল স্পেসশিপ’। কারণ এই পোশাক পরেই একজন স্বাভাবিকভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে পারবে। খেতেও পারবে। এমনকী, বেশ কিছু বৈজ্ঞানিক কাজকর্মও করতে পারবে।
এখনও পর্যন্ত জানা গিয়েছে যে ২০৩০ সালে মানুষের পা পড়বে মঙ্গলে। তাই, সময় রয়েছে এখনও খানিক। সম্পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে তবেই মানুষ পাড়ি দেবে ভিন গ্রহে।

প্রসঙ্গত, গত ৬ ফেব্রুয়ারি, মহাকাশে একটি ইলেক্ট্রিক গাড়ি পাঠিয়ে, লালগ্রহ অধিকারে এক ধাপ এগিয়েছে মার্কিন বেসরকারি সংস্থা স্পেস-এক্স। এবেলা।

শেয়ার

আপনার মন্তব্য করুন

Loading Facebook Comments ...