প্রচ্ছদ আইন-আদালত

কারা কয়েদির পোষাক না পরে হম্বিতম্বি করছেন খালেদা জিয়া

176
কারা কয়েদির পোষাক না পরে হম্বিতম্বি করছেন খালেদা জিয়া

বেগম জিয়াকে কারা পোশাক পরাতে চান কারা কর্তৃপক্ষ। কিন্তু কারা পোশাক কিছুতেই পরবেন না বিএনপির চেয়ারপারসন।

সোমবার সকালে নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কারাগারে এনিয়ে হয়ে গেল তুমুল বিতণ্ডা।

কারা কর্তৃপক্ষ বলছে, একজন দণ্ডিত ব্যক্তি জেলে এলে তাঁকে অবশ্যই কারা পোশাক পরতে হবে। দণ্ডিত পুরুষদের জন্য কারা পোশাক হলো সাদা ফতুয়া ও পায়জামা। নারীদের জন্য কারা পোশাক হলো সুতির সাদা শাড়ির সংগে কালো পাড়। কারা কর্তৃপক্ষ দণ্ডিত কয়েদীদের জন্য এই পোশাক দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু প্রতিদিনই তা বেগম জিয়া ফেলে দিচ্ছেন।

রোববার বিকেলে বেগম জিয়া ডিভিশন প্রাপ্ত হলে তাঁর কক্ষ পরিবর্তন করা হয়। তাঁকে পুরাতন কারাগারে শিশুওয়ার্ডের দোতলায় নিয়ে আসা হয়। এসময় কারাগারের একজন কর্মকর্তা বেগম জিয়াকে কারা পোশাক পরতে বলেন।

তখন বেগম জিয়া খুবই উত্তেজিত হয়ে বলেন, ‘আমি মরে গেলেও এই পোশাক পরব না। এগুলো তোমরা পর। যারা আমাকে জেল দিয়েছে তাদের পরাও।’

সোমবার সকালে কারাগারে একাধিক কর্মকর্তা বেগম জিয়ার সঙ্গে তার কক্ষে দেখা করে কারা পোশাক পরার অনুরোধ করলে, উত্তেজিত হয়ে উঠেন তিনি। সবাইকে জেলের ভাত খাওয়ানোর হুমকি দেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কারাগারের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন ‘উনি সম্মানিত ব্যক্তি। ওনাকে কারাগারের নিয়মনীতি মানতে হবে। আমরা চাই না তাঁকে কোনো কিছু বাধ্য করতে।’

খালেদা জিয়ার জামিনের বিরোধিতা করবে দুদক

কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া হাইকোর্টে জামিন আবেদন করলে শুনানিতে তার বিরোধিতা করবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

রবিবার দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম সাংবাদিকদের এ কথা জানান। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া জামিনের আবেদন করলে শুনানিতে আমরা কন্টেস্ট করব।

এর আগে, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেন ঢাকার বকশীবাজারে আলিয়া মাদ্রসা মাঠে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক আখতারুজ্জামান। এরপর থেকেই খালেদা জিয়া কারাগারে রয়েছেন।

২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলাটি দায়ের করে দুদক। ২০০৯ সালের ৫ আগস্ট তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা খালেদা জিয়াসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে এ মামলার চার্জশিট (অভিযোগপত্র) আদালতে দাখিল করেন।

এর প্রায় পাঁচ বছর পর ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ চার্জ (অভিযোগ) গঠন করে বিচার শুরু করেন। গত বছরের ৪ ডিসেম্বর এ মামলায় খালেদা জিয়ার পক্ষে আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি শেষ হয়।

এরপর ১৯ ডিসেম্বর মামলার যুক্তিতর্ক শুরু হয়। গত ২৫ জানুয়ারি উভয়পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন সমাপ্ত হলে ৮ ফেব্রুয়ারি রায়ের দিন নির্ধারণ করেন বিচারক।

শেয়ার

আপনার মন্তব্য করুন

Loading Facebook Comments ...