প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জেলা

আ.লীগের বাতিল উপ-কমিটি বহাল করার পাঁয়তারা শুরু

21
আ.লীগের বাতিল উপ-কমিটি বহাল করার পাঁয়তারা শুরু

দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়াদুর কাদেরের ঘোষণায় বাতিল হওয়া আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটিগুলো বহাল করার

পাঁয়তারা শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এমনকি বাতিল হওয়া অর্থ ও পরিকল্পনা উপ-কমিটির সদস্যদের নিয়ে আজ সোমবার বিকাল ৪ টায় বৈঠকও ডাকা হয়েছে। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে। যদিও এটিকে অনানুষ্ঠানিক বৈঠক বলেও দাবি করা হচ্ছে।

অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক কেন্দ্রীয় উপ কমিটির সদস্য সচিব টিপু মুন্সির পক্ষে রাজীব পারভেজ এ মিটিংয়ে অনান্য সদস্যদের উপস্থিত থাকার জন্য মুঠোফোনে ক্ষুদেবার্তা (এসএমএস) ও ফোন করেছেন। প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে বাতিল হওয়া অর্থ ও পরিকল্পনা উপ কমিটির সদস্য রাজীব পারভেজ বলেন, এটা কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠক না।

তিনি বলেন, আমরা এ উপ কমিটির ৩৭ জন সদস্য ও ৪ জন সহ সম্পাদক নিজেদের মধ্যে পরিচিত হওয়ার জন্য অর্থ ও পরিকল্পনা কমিটির সদস্য সচিব টিপু মুন্সির নির্দেশেই সবাইকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

তবে বাতিল হওয়া উপকমিটির বৈঠক কিভাবে হয় এবং কিভাবে আপনারা পরিচিত হতে পারেন এমন প্রশ্নের জবাবে রাজীব বলেন, আমরা আসলে গেট টুগেটার বা পরিচিত হওয়ার মতো কিছু একটা করছি। আমরা তো প্রেসকে কিছু জানাইনি। আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ড. আব্দুস সোবহান গোলাপের কাছ থেকে অনুমতি নিয়েই এ অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করা হচ্ছে দাবি তার।

বাতিল হওয়া এ উপকমিটির অনানুষ্ঠানিক বৈঠকের বিষয়ে সকাল ১০ টা ২১ মিনিটে টিপু মুুন্সিকে ফোন করলেও তিনি ধরেননি এবং ড. আব্দুস সোহবান গোলাপকেও ১০.২৩ মিনিটে কল করলে তার ব্যবহৃত গ্রামীণ ফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া গেছে।

এদিকে, ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা বলেন দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে যেখানে সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের মাসখানেক আগে ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ স্বাক্ষরিত উপ কমিটি বাতিল করে দিয়েছেন, সেখানে কিভাবে এ ধরনের বৈঠক করতে যাচ্ছেন তা বুঝতে পারছি না। তারা বলেছেন, এই অনানুষ্ঠানিক বৈঠকের ঘোষণার মাধ্যমে ‘গোলাপ কমিটি’ বৈধ করার পাঁয়তারা চলছে।

উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও সিনিয়র নেতাদের না জানিয়ে আব্দুস সোবহান গোলাপ স্বাক্ষরিত উপ কমিটি ও সহ-সম্পাদকদের তালিকা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উঠে আসে। যেসব কমিটিতে বিতর্কিত বিএনপি-জামায়াতের ক্যাডারদের ঠাঁই দেয়া হয়েছিল।

এর জের ধরে নানা বির্তকের পর এবং ছাত্রলীগের প্রাক্তন নেতারা বিক্ষোভের মুখে ‘গোলাপ স্বাক্ষরিত’ সব উপ-কমিটি বাতিল করার ঘোষণা দিয়েছিল আওয়ামী লীগ। তখন ৩ মাসের মধ্যে নতুন করে কমিটি দেয়ার ঘোষণাও দেয়া হয়। কিন্তু ৩ মাস পার হওয়ার আগেই বাতিল হওয়া উপ কমিটির এ ধরণের অনানুষ্ঠানিক বৈঠক নিয়ে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা সমালোচনা।

শেয়ার

আপনার মন্তব্য করুন

Loading Facebook Comments ...