প্রচ্ছদ শিক্ষাঙ্গন

প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে ইন্টারনেটে খাঁড়া: দেশজুড়ে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ

9
প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে ইন্টারনেটে খাঁড়া: দেশজুড়ে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ

এসএসসিতে প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে আগামী সবগুলো পরীক্ষার সকালে আড়াই ঘণ্টা ইন্টারনেটের গতি কমিয়ে রাখতে সব আইএসপি ও

মোবাইল অপারেটরদের নির্দেশনা দিয়েছে টেলিযোগাযোগ খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি।

এর অংশ হিসেবে রোববার রাত ১০টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত আধা ঘণ্টা পরীক্ষামূলকভাবে দেশের সব ইন্টারনেট প্রোভাইডারের ব্যান্ডউইথ প্রতি সেকেন্ড ২৫ কিলোবিটের মধ্যে সীমিত রাখা হয়।

রোববার সকালে আইসিটি বিষয়ের পরীক্ষা শুরুর সময় আধা ঘণ্টার বেশি সময় মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ রাখার পর বিটিআরসির এই নির্দেশনা এল।

ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএসপিএবি) সভাপতি এম এ হাকিম বলেন, “আজ রাতে এবং আরও ১০ দিন নির্দিষ্ট সময়ে এই নির্দেশনা অনুসরণ করতে সব ধরনের আইএসপি, মোবাইল অপারেটর ও ওয়াইম্যাক্স অপারেটরকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

এর মধ্যে রোববার রাত ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার বিষয়টি হবে পরীক্ষামূলক। আর বাকি দশ দিনের বিষয়টি কার্যকর হবে পরীক্ষা শুরুর সময় ধরে।

যেদিন যখন ইন্টারনেটে কড়াকড়ি

১২ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ১০টা (ক্যারিয়ার শিক্ষা)

১৩ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ১০টা (পদার্থবিদ্যা, বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা এবং ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং)

১৫ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ১০টা (রসায়ন, পৌরনীতি ও নাগরিকতা এবং ব্যবসায় উদ্যোগ)

১৭ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ১০টা (বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়)

১৮ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ১০টা (বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য, গার্হস্থ্য বিজ্ঞান তত্ত্বীয়, কৃষি শিক্ষা তত্ত্বীয় ও সংগীত) এবং বেলা ১২টা থেকে আড়াইটা (আরবি, সংস্কৃত, পালি, কর্মমুখী শিক্ষা, কম্পিউটার শিক্ষা, শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া, বেসিক ট্রেড, চারু ও কারুকলা)।

১৯ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ১০টা (জীব বিজ্ঞান, অর্থনীতি)

২০ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ১০টা (হিসাব বিজ্ঞান)

২২ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ১০টা (বিজ্ঞান ও উচ্চতর গণিত)

নানাভাবে চেষ্টা করেও সরকার স্কুল কলেজের পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে পারছে না। গত বছর পিইসি ও জেএসসি পরীক্ষায় প্রায় প্রতিটি বিষয়ে প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার পর এবার এসএসসিতে আধা ঘণ্টা আগে পরীক্ষার্থীদের হলে থাকা বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি প্রশ্নের প্যাকেট খোলার ক্ষেত্রে বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু তারপরও প্রতিটি পরীক্ষার প্রশ্নই ফাঁস হওয়ার পর ফেইসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে চলে আসছে পরীক্ষা শুরুর এক থেকে দেড় ঘণ্টা আগে।

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এবার এসএসসির শুরুতে বলেছিলেন, প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে পরীক্ষার দিনগুলোতে সীমিত সময়ের জন্য ফেইসবুক বন্ধ রাখার কথা ভাবা হচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় রোববার সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত ইন্টারনেট বন্ধ রাখার জন্য মোবাইল অপারেটরগুলোকে নির্দেশনা দেয় বিটিআরসি। কিন্তু ইন্টারনেট বন্ধ করতে করতে সাড়ে ৯টা বেজে যায়।

এদিকে রোববার সকালের ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি’ বিষয়ের ফাঁস হওয়া প্রশ্ন ইন্টারনেট বন্ধের আগেই বিভিন্ন ফেইসবুক ও মেসেঞ্জার গ্রুপে চলে আসে।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ঢাকা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তপন কুমার সরকার দুপুরে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ইন্টারনেট বন্ধে আজ একটু দেরি হয়ে গেছে। আজ মিটিং আছে মন্ত্রণালয়ে, পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতে কী পদক্ষেপ নেব- তখন জানা যাবে।”

এরপর সন্ধ্যায় ইন্টারনেটের গতি নির্দিষ্ট সময়ে কমিয়ে রাখার বিষয়ে নির্দেশনা জারি করে বিটিআরসি।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার হিসাবে গত ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে ইন্টারনেট গ্রাহক ছিল আট কোটির বেশি। এর মধ্যে সাড়ে ৭ কোটি গ্রাহকই মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করেন।

দেশে ধারাবাহিক জঙ্গি হামলা ও হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে জঙ্গিদের যোগাযোগের পথ বন্ধ করার কারণ দেখিয়ে ২০১৫ সালের ১৮ নভেম্বর দেড় ঘণ্টা ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হয় বাংলাদেশে। পরে ইন্টারনেট চালু হলেও ২২ দিন বাংলাদেশে ফেইসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগের বেশ কয়েকটি অ্যাপ ব্যবহারের সুযোগ বন্ধ রাখে সরকার।

এদিকে প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে না পেরে ইন্টারনেটের গতি নিয়ন্ত্রণের পখে হাঁটায় সরকারকে সমালোচার মুখেও পড়তে হচ্ছে।

গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার বলেন, “এ ধরনের সিদ্ধান্ত যারাই নিয়ে থাকুন, ইন্টারনেট সম্পর্কে তাদের ন্যূনতম ধারণা আছে কিনা আমার সন্দেহ হয়। প্রশ্নপত্র যে ফাঁস হয় সেটা ইন্টারনেটে হয় না। আগে ফাঁস হয় তারপর ইন্টারনেটের মাধ্যমে ছড়ায়। ফাঁস হওয়া বন্ধ করতে হবে আগে।”

তার ধারণা, এ ধরনের পদক্ষেপ প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে কোনো কাজে আসবে না, সেজন্য যেতে হবে গোড়ায়।

ব্লগার অ্যান্ড অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নেটওয়ার্কের (বোয়ান) আহ্বায়ক ইমরান বলেন, “প্রশ্নপত্র ছড়ানোর পেছনে জড়িত কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। এটা ইতিবাচক। কিন্তু এদের পেছনে কারা, কারা প্রশ্নপত্রটা ফাঁস করল- সেই অপকর্মকারীদের ধরার বিষয়ে কোনো উদ্যোগ সরকারের পক্ষ থেকে আমরা দেখছি না।”

শেয়ার

আপনার মন্তব্য করুন

Loading Facebook Comments ...