মাদ্রাসার ছাত্রী নিবাসে গভীর রাতে মৌলানা কর্তৃক শিশু শিক্ষার্থী ধর্ষণ!

114

নরসিংদীতে বিবি হাজেরা মহিলা মাদ্রাসার আবাসিক ছাত্রী নিবাস অভন্তরে মৌলানা শিক্ষক মাহমুদুল হাসান কর্তৃক ১১ বছরের

এক শিশু শিক্ষার্থীকে ঘুমন্ত অবস্থায় জোরপূর্বক ধর্ষণের এক চাঞ্চল্যকর সংবাদ পাওয়া গেছে।

জানা যায়, গত ১০ নভেম্বর শুক্রবার রাত প্রায় ১২টায় একই মাদ্রাসার ছাত্রী নিবাস অভন্তরে প্রবেশ করে লম্পট মৌলানা শিক্ষক শিশু শিক্ষার্থীকে ঘুমন্ত অবস্থায় জোরপূর্বক ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় সম্প্রতি ধর্ষিতা শিশু শিক্ষার্থীর পিতা স্বপন মিয়া বাদী হয়ে নরসিংদীর বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ সংশোধিত ৯(১)/৩০ ধারায় ৩ জনকে আসামী পূর্বক একটি মামলা দায়ের করা হয়। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলা নং- ৫৩৯- ২০১৭।

আদালতে দায়েরকৃত মামলার আসামীরা হচ্ছেন, নারান্দী বিবি হাজেরা মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষক নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা গ্রামের সামসু উদ্দিনের লম্পট পুত্র মৌলানা মাহমুদুল হাসান (৩৫), শিবপুর উপজেলার সৃষ্টিগড় গ্রামের ছাত্তার মিয়ার কন্যা ও মাদ্রাসা শিক্ষিকা কারিমা বেগম (২৪) ও একই মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি একই গ্রামের মৃত জব্বর আলী ভূঞার পুত্র আবুবকর সিদ্দিক (৬০)।

ঘটনার দিন গভীর রাতে ধর্ষক মৌলানা মাহমুদুল হাসান পরিকল্পিত উপায়ে মাদ্রাসার ছাত্রী নিবাসে প্রবেশ করে ঘুমন্ত শিশু শিক্ষার্থী হালিমা আক্তারকে (১১)  ঘুমের মাঝে তার শরীরে পরিধেয় সেলোয়ার খোলার এক পর্যায়ে নির্যাতিতা শিশুটি আচমকা জেগে উঠে। এ সময় লম্পট ধর্ষক মৌলানা মাহমুদুল হাসান শিশু শিক্ষার্থীর আর্ত-চিৎকার থামাতে তার হাত মুখ চেপে ধরে বিভিন্ন ভয়-ভীতিসহ খুনের ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।

মর্মর্স্পশী লোমহর্ষক নির্যাতনকালীন একই মাদ্রাসার শিক্ষিকা কারিমা বেগম প্রত্যক্ষভাবে কুলাঙ্গার মৌলানা মাহমুদুল হাসানকে এ ঘটনায় বাধা না দিয়ে সহায়তা করেন। সংঘঠিত বেদনাদায়ক শিক্ষার্থী নির্যাতন শেষে শিক্ষিকা কারিমা বেগমের উপস্থিতিতে ছাত্রীনিবাস থেকে বেরিয়ে যায়। পরদিন সকালে নির্যাতিতা শিশুটি মাদ্রাসা থেকে বাড়ি যেয়ে উপরোক্ত ঘটনার বিবরণ তার মা-বাবার কাছে দেয়।

পরবর্তীতে অবিশ্বাস্য ঘটনায় মর্মাহত মা-বাবা স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গসহ মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষসহ মনোহরদী থানায় যেয়ে ব্যার্থ হয়ে অবশেষে নরসিংদীর বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করতে বাধ্য হয়।

এদিকে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নারন্দী গ্রামের মৃত জব্বর আলী ভূঞার পুত্র আবুবকর সিদ্দিক (৬০) শিশু নির্যাতনকারী লম্পট ধর্ষক মৌলানা মাহমুদুল হাসানকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করে অপরদিকে বেদনাদায়ক ঘটনাটি এলাকায় ধামা-চাপা দিতে মরিয়া হয়ে উঠে।

মনোহরদীতে মহিলা মাদ্রাসার আবাসিক ছাত্রী নিবাস অভন্তরে মৌলানা শিক্ষক কর্তৃক শিশু শিক্ষার্থীকে ঘুমের ঘরে জোরপূর্বক ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর ঘটনার তিব্র নিন্দা, ক্ষোভ প্রকাশসহ অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতারে স্থানীয় মানবাধীকার সংস্থা নারী নির্যাতন প্রতিরোধ নেটওয়ার্ক (এন.এন.পি.এন), মাদারাসা ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি (এম.ডি.এস)সহ এলাকাবাসী জোর দাবী জানিয়েছেন।

শেয়ার

আপনার মন্তব্য করুন

Loading Facebook Comments ...