শেরেকি এবং বেদাতি কথাবার্তা পরিহার করো মুমিন!

170
শেরেকি এবং বেদাতি কথাবার্তা পরিহার করো মুমিন!

মুফতি আব্দুল্লাহ আল মাসুদ

বিশ্বের সব অালেমরা একমত— রাসুল (সা.) এর অনুসরণ করতে হবে জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে, এবং হুবহু। ইসলামের মধ্যে প্রবেশ করতে হবে পরিপূর্ণভাবে (সূরা বাক্বারা, অায়াত- ২০৮)।

তাহলে চলুন দেখা যাক, বর্তমান সময়ে মুসলমানদের সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত দুটো বাক্য কি ইসলাম সম্মত নাকি ইসলাম-বহির্ভূত বিদ’অাত?

১। “ইসলাম শান্তির ধর্ম।” মোহাম্মদ নিজে কখনো এ দাবি করেনি। সাহাবিরাও কখনো এমন দাবি করেনি। কোরঅান এবং হাদিসের কোথাও একথা লেখা হয়নি।

ইসলাম শান্তির ধর্ম, পৃথিবীতে সর্বপ্রথম এই মিথ্যা কথাটি যিনি বলেছেন তিনি একজন নাসারা— জর্জ ডাব্লিউ বুশ। তাহলে ‘ইসলাম শান্তির ধর্ম’ বলায় কি ইহুদী-নাসারা ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছেন না হে মুসলিম উম্মাহ?

২। “মোহাম্মদকে নিয়ে কটুক্তি করলে অনুভূতি অাহত হয়”— এমন কথাও কোরঅান, হাদিস, ফিক্বাহ, সীরাহ কোথাও লেখা নেই। মোহাম্মদ নিজেও কখনো একথা বলেনি। সাহাবিরা কখনো বলেনি। চার মাজহাবের কোন ইমাম কখনো বলেনি। সিহাহ সিত্তাহ রচয়িতারা বলেনি।

এই ‘অনুভূতি’ শব্দটি একটি বেদাতি এবং বে-শরা শব্দ।

মোহাম্মদের জীবদ্দশায় যারা তার বিরুদ্ধে কবিতা লিখতো তাদেরকে গুপ্তঘাতক পাঠিয়ে হত্যা করেছে মোহাম্মদ। ঘাতক পাঠানোর সময়ে ঘাতকদের সামনে উত্তেজনাকর বক্তব্য দিয়ে তাদেরকে অনুপ্রাণিতও করেছিল সে, তখন তার বক্তব্য ছিল এরূপ — অমুকে অাল্লাহ এবং তার রাসুলকে কষ্ট দিয়েছে, কে অাছ তাকে হত্যা করতে পারবে?…
পারলে পড়ুন বোখারির কা’ব বিন অাশরাফ হত্যাকান্ড ও অাবু রাফে হত্যার হাদিস।

কোন যুদ্ধ কিংবা হত্যাযজ্ঞের সময়েও মোহাম্মদ কোনদিন ‘অনুভূতি’ শব্দটি ব্যবহার করেনি। তাহলে এই ‘ইসলাম শান্তির ধর্ম’ এবং ‘অনুভূতি অাহত হওয়া’ বাক্য দুটি কি বিদ’অাত নয়?

অাসুন দেখি, ইসলামে বিদ’অাতের অবস্থান কি: 
মোহাম্মদ বলেন,
تركت فيكم امرين لن تضلوا ما تمكتم بهما كتاب الله وسنتى. (مشكوة شريف)
অর্থ: “তোমাদের জন্য আমি দু’টি জিনিস রেখে গেলাম, এ দু’টি জিনিসকে যদি তোমরা আঁকড়ে ধর (অনুসরণ কর), তবে তোমরা কখনো গোমরাহ হবে না। একটি হলো- আল্লাহর কালাম তথা কুরআন শরীফ, অন্যটি হলো- আমার সুন্নত (হাদিস)।” (মিশকাত শরীফ)।

অন্য এক হাদিসে বলা হয়েছে,
كل بدعة ضلالة وكل ضلالة فى النار.
অর্থ: “প্রত্যেক বিদ’অাতই গুমরাহী, আর প্রত্যেক গুমরাহ লোকই জাহান্নামে যাবে।”

অারেক হাদিসে বলা হয়েছে,
من احدث فى امرنا هذا هذا ماليس منه فهو رد.
অর্থ: “যে ব্যক্তি আমার এ দ্বীনের ভিতরে কোন নতুন জিনিস উদ্ভাবন করবে, যার ভিত্তি এ দ্বীনে নেই, সেটা অবশ্যই পরিত্যাজ্য।”

মুসলিম মনীষীগণের উক্তি, বিদ’অাত নিয়ে—
والبدعة فى الاصل احداث امر لم يكن فى زمان رسول الله صلى الله عليه وسلم. (عمدة القاوى)
অর্থ: “প্রকৃতপক্ষে বিদ’অাত হলো- এমন জিনিসের আবির্ভাব, যার নমুনা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সময়ে ছিল না।” (ওমদাতুল ক্বারী শরহে বুখারী)— মোল্লা অালী ক্বারী।

হযরত ইমাম নববী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি লিখেছেন,
وفى الشرع إحداث مالم يكن فى عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم. (شرح مسلم)
অর্থ: “ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক বিদ’অাত হচ্ছে- এমন সব নব আবিষ্কৃত জিনিসের নাম যা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সময়ে ছিল না।” (শরহে মুসলিম লিন নববী)।

হযরত শায়খ আব্দুল হক্ব মুহাদ্দিস রহমতুল্লাহি আলাইহি লিখেছেন,
بدانكه هرحيز ييدا شده بعد از ييغمبر عليه السلام بدعت است. (أشعة اللمعات)
অর্থ: “জেনে রাখ, হুযূর পাক ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পরে উদ্ভব ঘটেছে এমন প্রত্যেক কাজই বিদ’অাত।” (আশআতুল লুমআত)।

উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা এটা স্পষ্টই বোঝা যায় যে, বিদ’অাত হলো, মোহাম্মদের পর হতে ক্বিয়ামত পর্যন্ত উদ্ভাবিত প্রত্যেক নতুন বিষয়। তা যেকোনো সময়ে হতে পারে।

হযরত মুজাদ্দিদে আলফে সানী বলেন, “বিদ’অাত বলতেই গোমরাহী। আমি কোন বিদ’অাতের মধ্যেই নূর দেখি না, তা বিদ’অাতে সাইয়্যিয়াহ্ই হোক বা বিদ’অাতে হাসানাই হোক।”

# মুমিন জাতি কি বেদাতি কথাবার্তা বন্ধ করবেন এবার?

শেয়ার

আপনার মন্তব্য করুন

Loading Facebook Comments ...