বিএনপি শেখ হাসিনাকে, আ. লীগ খালেদা জিয়াকে মাইনাস করতে চায়?

141
বিএনপি শেখ হাসিনাকে, আ. লীগ খালেদা জিয়াকে মাইনাস করতে চায়?

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাজিমাত করতে দুই দলেরই ভরসা এখন ‘মাইনাস ফর্মুলা’। ২০০৭ সালে দুই নেত্রীকে রাজনীতি

থেকে বিদায় করতে মাইনাস ফর্মুলা উদ্ভাবন করেছিল এদেশের সুশীল সমাজ।

প্রধান দুই রাজনৈতিক দলই তখন মাইনাস ফর্মুলার তীব্র প্রতিবাদ করেছিল। অথচ এখন নির্বাচনের ঠিক এক বছর আগে দুই দলই তাঁর বিজয়ের হিসেব কষছে মাইনাস ফর্মুলায়।

গত ১২ নভেম্বর জনসভায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া তাঁর মাইনাস ফর্মুলার কথা প্রকাশ্যেই বলেছেন। বেগম জিয়া কোনো রাখঢাক ছাড়াই বলে দিয়েছেন, ‘শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচন হবে না।’

বিএনপি মাইনাস ফর্মুলা স্পষ্ট। শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীত্ব ছাড়লেই তাঁরা নির্বাচনে যাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আন্দোলন বা ষড়যন্ত্র কিংবা আদালতের নির্দেশনা- যেকোনো পন্থায় যদি প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে শেখ হাসিনাকে সরানো যায়, তাহলেই বিএনপির বিজয়।

বাংলাদেশে ৯১ সাল থেকে দেখা গেছে, পদত্যাগ করে নির্বাচন করে কেউ পুনরায় বিজয়ী হতে পারেনি। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় ত্রুটি ছিল এটি। যেখানে সদ্য বিদায়ী ক্ষমতাসীন দলের পরাজয় অবধারিত। তাই বিএনপির লক্ষ্য একটিই- যেকোনো মূল্যে শেখ হাসিনাকে মাইনাস করা। এটা বিএনপি যেকোনো প্রকারে করতে চায়।

২১ আগস্টের মতো সন্ত্রাসী ভাড়া করে শেখ হাসিনাকে হত্যা করে, আদালতের মাধ্যমে জুডিশিয়াল ক্যু করে কিংবা গণআন্দোলনের মাধ্যমে। বিএনপি নেতারা এমনকি খোদ বেগম জিয়াও জানেন, আন্দোলনের মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে নামানোর বাস্তব অবস্থা এবং সাংগঠনিক ক্ষমতা বিএনপির নেই। তাই ষড়যন্ত্র কিংবা সন্ত্রাসই বিএনপির শেষ ভরসা।

বিএনপির নেতারাও স্বীকার করেন, ‘শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকলে আর যাই হোক বিএনপির ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা নেই।‘

বিএনপির মতো সর্বগ্রাসী না হলেও মাইনাস ফর্মুলা আওয়ামী লীগের মনেও বাসা বেঁধেছে। তবে আওয়ামী লীগের মাইনাস ফর্মূলা এক কেন্দ্রিক। বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির দুটি মামলার বিচার শেষ পর্যায়ে। এই দুটি মামলার যেকোনো একটিতে বেগম জিয়ার দুবছর বা তার বেশি সাজা হলেই তিনি নির্বাচনের অযোগ্য হয়ে যাবেন। বেগম জিয়া নির্বাচনের অযোগ্য হলে আর যাইহোক বিএনপি নির্বাচনে জয়ী হতে পারবে না।

বেগম জিয়া নির্বাচনের অযোগ্য হলে বিএনপির একটি অংশ হয়তো নির্বাচন বর্জনের পথেই হাঁটবে। আওয়ামী লীগের জন্য তৃতীয় দফায় ক্ষমতায় যাওয়ার পথ পরিষ্কার হয়ে যাবে।

কার মাইনাস ফর্মূলা কার্যকর হবে তা দেখার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতেই হবে। তবে ২০০৭ সালে নীরব সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ যেমন মাইনাস ফর্মুলাকে গ্রহণ করেনি, এখনো জনগণ মাইনাস ফর্মুলায় বিশ্বাসী না।

বরং সাধারণ মানুষ চায় দুই নেত্রীর হাড্ডাহাড্ডি নির্বাচনী লড়াই। ভোটের লড়াই। এই জমজমাট লড়াইয়ে নাগরিকরা তার পছন্দের মার্কায় ভোট দিতে চায়। কিন্ত যেভাবে সব কিছু এগুচ্ছে, তাতে কি দুই নেত্রীর ভোটের লড়াই আর দেখবে জনগণ?

শেয়ার

আপনার মন্তব্য করুন

Loading Facebook Comments ...