বিএনপি’কে ‘ষড়যন্ত্রের রাজনীতি’ থেকে সরাতে ভিন্ন কৌশল আ’লীগের

85
বিএনপি'কে ‘ষড়যন্ত্রের রাজনীতি’ থেকে সরাতে ভিন্ন কৌশল আ'লীগের

বিএনপির রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনে বাধা না দিয়ে বরং সহায়তা করতে চায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী

লীগ।

সভা-সমাবেশের সুযোগ তৈরি করে দিয়েই দলটির লাগাম টেনে ধরতে চায় ক্ষমতাসীনরা। বিএনপিকে নিয়ে আপাতত নতুন এই কৌশল নিয়েছে আওয়ামী লীগ। দলটির নীতিনির্ধারণী মহল এ তথ্য জানিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বিএনপিকে মাঠে নামার সুযোগ দিচ্ছে না, সভা-সমাবেশ করতে দেওয়া হয় না বলে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিএনপির অভিযোগ ভিত্তিহীন প্রমাণ করা ও বিএনপির ‘ষড়যন্ত্রের রাজনীতি’ থামাতে এই কৌশল নিয়েছে ক্ষমতাসীনরা।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের মতে, বিএনপি মাঠে থাকলে জ্বালাও-পোড়াও, সংঘাত-সংঘর্ষ ও জনভোগান্তি সৃষ্টি করবে এবং এর ফলে তাদের কাছ থেকে জনগণ মুখ ফিরিয়ে নেবে। আর জ্বালা-পোড়াও, সংঘাত-সংঘর্ষে জড়ালে তাদের নেতাকর্মীদের আইনের আওতায় এনে আবারও দলটির লাগাম টেনে ধরা যাবে বলে মনে করে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী মহল।

এ চিন্তা থেকেই ক্ষমতাসীনরা চায় বিএনপি মাঠে নামুক, সভা-সমাবেশ করুক। এ পরিকল্পনার সুফল আওয়ামী লীগের ঘরে যাবে বলেও মনে করেন দলটির নীতিনির্ধারকরা।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্যাহ বলেন, ‘বিএনপি তো ঢালাও একটি অভিযোগ করে যাচ্ছে– আওয়ামী লীগ তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে দিচ্ছে না। কিন্তু বিএনপি নিজেদের শক্তি সামর্থ্য নেই বলে কর্মসূচি পালন করতে পারে না। আমরা যে তাদের বাধা দিচ্ছি না, বরং সুযোগ করে দিচ্ছি– সেটা জনগণ দেখুক, বুঝুক।’

সম্পাদকমণ্ডলীর গুরুত্বপূর্ণ এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমরা চাই বিএনপি মাঠে থাকুক। তবে মাঠে থেকে বিশৃঙ্খলা করলে উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।

ওই সম্পাদকমণ্ডলীর নেতা আরও বলেন, আমাদের কাছে তথ্য আছে তারা ষড়যন্ত্র করার চেষ্টা করছে। তাই রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করার সুযোগ দিয়ে, ষড়যন্ত্রের পথে সময় ব্যয় যাতে না করতে পারে– সেটা নিশ্চিত করতে চাই।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী সূত্রগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাচনের আগে আগামী ৩/৪ মাস বিএনপিকে মাঠে নামার সুযোগ করে দিয়ে তাদের আসল চরিত্র জনগণের সামনে আবারও তুলে ধরতে চায় আওয়ামী লীগ। আর তা চায় বলেই সড়কপথে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কক্সবাজার যাত্রায় সাধ্যমতো সহায়তা দিয়েছে ক্ষমতাসীনরা। সর্বশেষ ঢাকায় জনসভা করারও অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

তবে রবিবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসভায় ঢাকার আশপাশ থেকে বিএনপির নেতাকর্মীদের আসতে দেওয়া হচ্ছে না– দলটির এমন অভিযোগ মিথ্যা অভিহিত করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এটা খতিয়ে দেখতে হবে, খোঁজ নিতে হবে বাধাটা কে দিচ্ছে? বিএনপি তো নিজেরাই নিজেদের বাধা দেয়। অতীতেও তারা এমন অভিযোগ করেছে। পরে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, এর কোনও ভিত্তি নেই। আসলে কথায় কথায় নালিশ করা বিএনপির পুরনো অভ্যাস।’

নীতিনির্ধারণী মহলের একটি অংশ মনে করে, বিএনপিকে মাঠে নামার সুযোগ সৃষ্টি করে দেওয়ার পেছনে আওয়ামী লীগের দুটি উদ্দেশ্য আছে– একটি বিএনপির শক্তি সামর্থ্য সম্পর্কে অবহিত হওয়া এবং তারা যে জ্বালাও-পোড়াওয়ের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি তা জনগণের কাছে প্রমাণ করা।

দলটির একজন নীতিনির্ধারক বলেন, বিএনপি নির্বাচনে আসবে, এটা আমরা বিশ্বাস বিশ্বাস করি। এজন্য তারা ঘর গোছাবে এবং রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করবে– এটাও আমরা চাই। আমরা এটাও বিশ্বাস করি, তারা জ্বালাও-পোড়াও, সংঘাত-সংঘর্ষের খোলস থেকে বের হয়ে আসতে পারেনি। এটা জনগণ দেখুক।

তাই আমরা তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের ক্ষেত্রে সুযোগ তৈরি করে দিতে চাই। পাশাপাশি জনগণকেও দেখাতে চাই বিএনপির চরিত্র। এই সুযোগ তারা কিভাবে গ্রহণ করে তাও আমরা দেখতে চাই। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে সরকার সহযোগিতাই করবে। তবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে জবাব দেওয়া হবে। নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা হবে বিএনপিকে।

শেয়ার

আপনার মন্তব্য করুন

Loading Facebook Comments ...