মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশের রাম রহিমদের গ্রেপ্তার করুন

504
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশের রাম রহিমদের গ্রেপ্তার করুন

আব্দুল্লাহ আল মাসুদ

ঢালকানগরের পীর অাবদুল মতিনের ঈমানের সেন্সিটিভিটি অনেক বেশি, দাড়িবিহীন বালক দেখলেই তিনি সেন্সিটিভ হয়ে পড়েন! তার অাধ্যাত্মিক (ইসলাহী) বয়ানের পুরোটা জুড়েই থাকে ‘লুতি অামল’ থেকে দূরে থাকার তাকিদ।

দাড়িবিহীন বালকদের থেকে তিনি পর্দা করেন, অন্যদেরও পর্দা করতে বলেন; ভক্তরা বলে- অাহা, কি ঈমান হুজুরের!!

ভারতের পীর অাবরারুল হক এবং পাকিস্তানি পীর হাকিম অাখতারের অগণিত ভক্ত অাছে বাংলাদেশে, যারা সবাই অালেম। এ দুই পীরের ভক্তদের পায়ুপ্রেম কিংবদন্তিতুল্য। গরিব মুরিদের চেয়ে ধনী মুরিদের মূল্য তাদের কাছে অনেক। অবশ্য সব পীরদের অবস্থাই এমন। অামলা, অফিসার, সচিব, শিল্পপতি দেখলেই তাদের জিকির ও ঈমানের জোশ বেড়ে যায়! ভক্তরাও তখন হুজুরের কীর্তন বর্ণনায় শশব্যস্ত হয়ে পড়ে।

ঢাকায় বিশাল ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা অাজদাহা হুজুর যৌবনে প্রচণ্ড পায়ুপ্রেমী ছিলেন। চট্টগ্রামের পটিয়া মাদরাসা থেকে রাতের অন্ধকারে পালিয়েছিলেন পায়ুপথ নিষ্কাশনে ধরা পড়ার কারণে! অধিকাংশ কওমির অালেমরা এ ঘটনা জানে কিন্তু বলে না।

রাতে পালিয়ে হুজুর ঢাকায় এসে শিল্পপতির দরবারে গিয়ে কাঁদলেন। শিল্পপতি জিজ্ঞেস করলেন- কি হয়েছে হুজুর?
হুজুর বললেন- অামি নবীজিকে স্বপ্নে দেখেছি, নবীজি অাপনার হাউজিং প্রকল্পের একটি জায়গায় মাদরাসা করার অাদেশ করেছেন!

নবীর স্বপ্নে সেখানে এখন বিরাট মাদরাসা হয়েছে। সোবহানবাগ লাল মসজিদের সাবেক ইমামের তো পায়ুকামের বিরাট ইনিংসের রেকর্ডও অাছে।

ক্বারি হাবিবুল্লাহ বেলালী নামের ক্বারি সাহেবের রাতসমূহের মধ্যে স্ত্রীকে পেটাননি এমন রাত খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। ‘পাগড়ির ফজীলত’ বইয়ের লেখক মুফতি বশির তার স্ত্রীকে দৈনিক পেটাতেন, সব প্রতিবেশী জানতো। মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন বউ পেটানোর পাক্কা খেলোয়াড়।

বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ ও জনপ্রিয় বক্তা হাফিজুর রহমান ওয়াজ করতে গিয়ে এশকের দরিয়ায় ডুবে গেলেন, ঘরে অানলেন নতুন বৌ। নতুন বৌ অানাতে পুরাতন বৌয়ের মনখারাপ হয়নি, কারণ এখন হুজুর অাগেরমত পেটান না!

মুফতি অামজাদ হুজুর সহীহ তরিকায় অারেক মেয়ের শরাবান তহুরা (মেয়েটার নাম শরাবান তহুরা) পান করলেন এবং বউ পিটিয়ে চাকরি খোয়ালেন।

তেঁতুল হুজুর প্রায়ই বৌ পেটাতেন, বৃদ্ধ হওয়ার পর অবশ্য পেটান না।

এসব বৌদেরকে জিজ্ঞেস করলে মার খাওয়ার কথা স্বীকার করবে না, অাল্লাহ নারাজ হবেন কিনা! রিমান্ডে নিলে অবশ্য স্বীকার করবে পিটুনি খাওয়ার কথা!

একজন পর্দানশীন মেয়ে কখনো মুরতাদ হতে পারবে না, কারণ সে সর্বদা নিজেকে ‘পুরুষের খাবার’ মনে করে। তার মস্তিষ্কের স্বাধীন অংশটি ইসলাম নামক যন্ত্রের সাহায্যে অকেজো করে দেয়া হয়।

নবী মোহাম্মদের স্ত্রীরা মার খাওয়ার কথা স্বীকার করেনি কখনো। অায়েশা এবং হাফসা ছাড়া সবাই কমবেশি মার খেয়েছে। অায়েশা এবং হাফসা প্রভাবশালীর মেয়ে হওয়ায় মাঝেমধ্যে বিদ্রোহও করতেন, তখন অাল্লাহর হস্তক্ষেপ এবং হুংকারের মাধ্যমে তা দমন করা হতো। জানতে চাইলে পড়ুন সূরা অাহজাব এবং সূরা তাহরীম এর তরজমা ও তাফসীর।

অামরা যখন মাদরাসায় পড়তাম তখন হুজুররা বলতেন- হুজুররা যেখানে পেটান সে জায়গা দোজখের অাগুনে জ্বলবে না।

অার হুজুররা মারলে তা বাসায় গিয়ে বলতে হয় না, বললে অাল্লাহ নারাজ হন। পিটুনি খাওয়ার কথা বাইরে বললে এলমেদ্বীন (ইসলামি বিদ্যা) শিক্ষা থেকে মাহরুম (বঞ্চিত) হতে হয়।

এজন্য হাজারটা বেতের বাড়ি খেলেও বাসায় গিয়ে বলতাম না! মা ফাতেমার স্বামী দাবিদার দেওয়ানবাগী হুজুরের অাকাম-কুকাম রাম রহিমকেও হার মানায়। রাজারবাগী মৌলবাদী পীর তো অারো সরেস, দুনিয়ার সবকিছু হারাম ফতোয়া দিয়ে দুনিয়াবাসীকে কাফের মনে করে সে। নিজের নামে ‘অালাইহিস সালাম’ লাগায় সে! তার নাম উচ্চারণের পূর্বে উনপঞ্চাশখানা লকব অাছে, যা উচ্চারণ করা ফরজ!

‘হাদিয়াবাবা’ কুতুববাগী মৌজ-মাস্তিতে ব্যস্ত। চন্দ্রপুরীরও ব্যবসা মন্দ নয়। এনায়েতপুরীর ব্যবসা ভালো যাচ্ছে না, অাগেরমত প্রতি রাতে নতুন নতুন নারীভক্তর সেবা মেলে না! শাহজালাল, শাহপরান, শাহমখদুমের মাজার যেন মাদকের অাড্ডাখানা।

মিরপুর শাহঅালির মাজার ঢাকার বৃহত্তম মাদকের অাড়ত, রাজনৈতিক নেতাদের ভাগ অাছে এসবে। মিরপুর ও মোহাম্মদপুর বিহারি পল্লী মাদকের বৃহত্তম অাস্তানা, এদের সাথে মাজারের নিবিড় যোগাযোগ। মাজারগুলোয় ছদ্মবেশে পাগল সেজে ঘুরে বেড়ায় মাদক কারবারিরা। পাগলবেশী গোয়েন্দাও থাকে যারা বাবার স্পেশাল ফোর্সের সদস্য।

অার নারীভক্তের সাথে রাত কাটানো যায় এক হাজার টাকায়, তবে এরা খুব সাবধানী, সহজে ধরা দেয় না। বাবাদের কম্পাউন্ডে রিজার্ভ ‘নারীভক্ত’ অাছে, সমাজের উচুশ্রেণির লোকেরা এ সবের ভাগ পায়, অার স্বয়ং ‘বাবা’ হলেন এর তত্ত্বাবধায়ক। সরকারি বেসরকারি অামলা, মাঝবয়সী হাজী সাহেব, পাতি রাজনীতিবিদ প্রমুখ বিশিষ্টজনেরা বাবার খেদমতে এসে বাবার রিজার্ভ মুরিদানির সাথে সহবত করে।

তাদের ভাষা সাংকেতিক। যেমন বলবে- অামি ওয়াজ শুনবো, অথবা বলবে- সালাত অাদায় করবো, অথবা বলবে- নফল রোজা রাখবো, অথবা বলবে- তেলাওয়াত করবো; তবে এ সবকিছুর অর্থ হচ্ছে- সহবত লাগবে। টাকা অনুযায়ী মিলবে ওয়াজ, সালাত, রোজা, তেলাওয়াত ইত্যাদি।

ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল, নোয়াখালী, সিরাজগঞ্জ, ফরিদপুর, বগুড়া, মানিকগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় এমন শতশত সালাত অাদায়ের দরবার শরীফ ও দরগা শরীফ অাছে। সমাজের এলিট শ্রেণির ভক্তকুলের জন্য পার্সেল করে মুরিদানী বাসায়ও পাঠানো হয়।

অামি গোয়েন্দা অফিসার নই। অামি অনুসন্ধানী চোখে যা দেখেছি তাই বললাম। পুলিশ এসব বিষয়ে অামার চেয়ে অনেক ভালো জানে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশের রাম রহিমদের গ্রেপ্তার করুন। রাম রহিমদের গ্রেপ্তার করলে অাপনার জনপ্রিয়তা কমবে না, বরং বাড়বে।

শেয়ার

আপনার মন্তব্য করুন

Loading Facebook Comments ...