অামার ইসলাম ত্যাগে মুরিদদের প্রতিক্রিয়া

403
অামার ইসলাম ত্যাগে মুরিদদের প্রতিক্রিয়া

আব্দুল্লাহ আল মাসুদ

ইসলাম ধর্মে লক্ষ লক্ষ মতবাদ, লক্ষ লক্ষ পীর। সবাই একমত, সব ষড়যন্ত্রের মূলে ইহুদী-নাসারা! একেক পীরের পোশাক, পরিভাষা, উপাসনা, ধর্মবিশ্বাস একেকরকম। পীর সাহেবরা নিজেরাও জানে, তারা ভণ্ড ও পেটপুজারী। মুরিদরা অাবার অাল্লাহকে পেতে পীরের দ্বারস্থ হন, কিন্তু পীরের টার্গেট মুরিদের পকেট; অার নারী মুরিদ হলে তার শরীরখানা!

অামার ইসলাম ত্যাগে সমস্ত মুরিদান অাহত হয়েছেন, কারণ তারা জাহেলে মোরাক্কাব (পূর্ণ মূর্খ)। পীরেরা অাহত হয়েছেন, কারণ তাদের ‘ফাও খাওয়ার’ যুগ বুঝি ফুরিয়ে অাসছে!

পীর-মুরিদীর পরিভাষাগুলি অারবি, উর্দু, ফার্সি ভাষার মিশেলে তৈরি। এ সবের অর্থ না বুঝলেও লেখাটি পড়ে ভালো লাগবে অাশা করি!

অাসুন মুরিদদের প্রতিক্রিয়া একটু বোঝার চেষ্টা করি

১. জলহস্তী পীর হযরত দেওয়ানবাগী হুজুর কেবলার মুরিদ:
মাসুদ যদি অামার হুজুর কেবলাজান মাহবুবে খোদার দরবারে যেত তাহলে সে নাস্তিক হতো না। হুজুরের রুহানি ফয়েজের উসিলায় সে মোহাম্মদী ইসলামের মুখলিস অনুসারী হয়ে অাশেকে রাসুল হয়ে নবীজির দিদার লাভ করে কামিয়াবি হাসিল করতে পারতো। সে নবীজির সম্মানে মিলাদ-কিয়াম করতো না, তাই মোহাম্মদী ইসলামের পুনর্জীবন দানকারী হযরত দেওয়ানবাগী (কু.ছে.অা.) হুজুরের লা’নতের কারণে নবীজি তার ঈমান কেড়ে নিয়েছেন।

২. মুরিদ অব বাহাসি পীর হযরত রাজারবাগী ওরফে ‘উনি, উনারা’ ওরফে দিল্লুর রহমান:
মুফতি মাসুদ যদি অামার শায়খ হযরত রাজারবাগী হুজুর কেবলা (অা.) উনার মুরিদ হতো, তাহলে সে হযরত সাইয়্যেদুল মুরসালিন উনার অাশেক হয়ে সহীহ দ্বীন শিখে কামিয়াবি হাসিল করতে পারতো। সে ইহুদীদের প্রতিষ্ঠান কওমি মাদরাসায় পড়াশোনা করেছে। কওমি মাদরাসা হচ্ছে ইহুদীর দালাল সৌদির মতো তাগুত এবং কুফুরির কেন্দ্র। সে সহীহ দ্বীন পায়নি বলে এখন হযরত নবী অাকদাস (সা.) উনার, উম্মাহাতুল মুমিনীন উনাদের, সাহাবায়ে কেরাম উনাদের, হযরতে হুজুর কেবলা (অা.) উনার চরিত্র হনন করে জাহান্নামবাসী হচ্ছে। সে ক্যামেরায় ছবি তুলতো ও ভিডিও করতো যা হযরত রাসুলপাক (সা.) উনার শরীয়তে বিলকুল হারাম। সে অাগে থেকেই ছিল ওলামায়ে ছু’দের একজন। সে এখন ইসরাঈলের টাকা এবং কুপরামর্শে মহান অাল্লাহ উনার মহাপবিত্র কোরঅান উনার বিরুদ্ধে বিষোদগার করে যাচ্ছে।

মাসুদকে জামানার মুজাদ্দিদ, গাউসুল অাজম অামার মুর্শিদ কিবলা (অা.) উনার পক্ষ হতে ওপেন বাহাস করার চ্যালেঞ্জ করছি।

৩. মুরিদ অব খাজাবাবা শামিয়ানা ফরিদপুরী:
মুফতি মাসুদ যদি বিশ্ব জাকের মন্জিলে অাসতো তাহলে তার কলবে জেকের জারি হতো, সে বিশ্বওলী খাজাবার রুহানি তাজাল্লীর বরকতে পূর্ণ ঈমানদার হতে পারতো। তার কলব জেন্দা হতো।

৪. মুরিদ অব কিস্তি টুপি ওরফে ডিজিটাল পীর মাইজভান্ডারী:
সে ওহাবিদের মাদরাসায় পড়াশোনা করার কারণে তরিকতের এলেম হাসিল করেনি, তাইতো তার এত অধঃপতন। সে যদি অামার হুজুর কেবলার হাতে বায়াত করে নকশবন্দিয়া, মোজাদ্দেদীয়া, কাদেরীয়া, সাবেরীয়া, চিশতিয়া তরিকার সবক গ্রহণ করতো তাহলে গোমরাহ (পথভ্রষ্ট) হতো না।

৫. মুরিদ অব কান্দাবাবা চরমোনাই:
চরমোনাইয়ের মাহফিলে গিয়ে যদি পীর সাহেব হুজুরের হাতে হাত দিয়ে সে তওবা করতো তাহলে কোনদিন গোমরাহ হত না।

ঈমান টিকিয়ে রাখার জন্য মাওলার দরবারে কাঁদতে হয়, পীরের হাতে বয়াত হতে হয়। সে নিজেকে নিজে মহাপন্ডিত ভেবে পীর সাহেবের দরবারে যায়নি বলে মুরতাদ হয়ে গেছে।

৬. মুরিদ অব হক্বমওলা পীর শর্ষীনা:
সারাদেশে ইহুদীদের এজেন্ট ছড়িয়ে অাছে, মুফতি মাসুদ কোন হক্কানী পীরের সোহবত গ্রহণ না করার কারণে ইহুদীদের খপ্পরে পড়ে পথভ্রষ্ট হয়েছে। এখান থেকে শিক্ষণীয় যে, কোন অালেমও কামেল না; কোন না কোন হক্কানী পীরের সোহবতে থাকতে হয়।

৭. মুরিদ অব জাকির নায়েক অাল টাইবাবা:
মুফতি মাসুদ যদি জাকির নায়েকের সব লেকচার শুনতো, তাহলে সে কাফের-নাস্তিকদের সব চক্রান্ত ধরতে পারতো। নাস্তিকদের অপপ্রচারের দাঁতভাঙ্গা জবাব দিয়ে অাল্লাহর দ্বীনের সাহায্যকারী হতে পারতো। মিডিয়ার অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হয়ে সে মুরতাদ হয়েছে।

৮. মুরিদ অব অাবদুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ অাল-নরম হুজুর:
মাসুদ যদি সালাফী মতাদর্শ গ্রহণ করতো, তাহলে সে ইসলামের চিরন্তন সৌন্দর্য বুঝতে পারতো। জান্নাতি হুরদের শরীর যে কত নরম তা-ও সে বুঝতে পারতো। যাবতীয় শিরক-বিদ’অাত মুক্ত হয়ে সহীহ অাক্বীদা ও তাওহীদের পতাকাধারী হতে পারতো।

৯. মুরিদ অব হাকীম অাখতার অথবা অাবরারুল হক (অালেমরাই সাধারণত এ দুই পীরের মুরিদ হয়):
মাসুদ যদি অামাদের হযরতজী বা হারদূয়ী হযরতের মুরিদ হতো তাহলে সে তাজকিয়ার ‘অালা দরজায় পৌঁছতে পারতো। রাতে তাহাজ্জুদ পড়ার পর সে পায়ুপথ নিষ্কাশনের সুযোগও পেত। সকালবিকাল ওজীফা পাঠ করে সে দুনিয়াতে মুকাররাবীন ও অাখেরাতে মাকামে ইল্লিয়্যীনের দারাজাত হাসিল করতে পারতো।

১০. মুরিদ অব এসলাম এন্ড দাজ্জাল হিজবুত তাওহীদ:
সারাবিশ্বে চলছে এহুদীবাদী দাজ্জালের শাসন। মাসুদ যদি এসলাম ভালোভাবে স্টাডি করতো তাহলে সে বুঝতো, মোমেন না হয়ে মারা গেলে কবরে মোনকার-নাকেরের সওয়াল জওয়াবে সে অাটকে যাবে। তার উচিত ছিল দাজ্জাল তথা এহুদী-নাসারা সভ্যতার ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সতর্ক হয়ে অামাদের মহান এমামুজ্জামানের (পীর) তরিকা গ্রহণ করা।

১১. মুরিদ অব রাতপোস্টারী হিজবুত তাহরীর:
খিলাফত ব্যবস্থা না থাকার কারণে দলে দলে মানুষ নাস্তিক হচ্ছে। ‘হিজবুত তাহরীর উলাইয়াহ বাংলাদেশ’ এর সাথে থাকলে মাসুদ কোনদিন নাস্তিক হতো না। রাতের অন্ধকারে পোস্টারিং করে, খিলাফতের পক্ষে জিহাদ করে, অাল্লাহর দুশমনদের খতম করে সে মুজাহিদ হিসেবে জীবন গড়তে পারতো। সে বাহাত্তর হুরের মালিক হতে পারতো।

১২. মুরিদ অব লাগানী এন্ড সালী তাবলীগ:
অাল্লাহর রাস্তায় নিয়মিত সময় লাগালে মাসুদ নাস্তিক হতো না। ঈমান হেফাজতের জন্য বছরে তিন চিল্লা দেয়া জরুরি, অথচ মুফতি মাসুদ অাল্লাহর রাস্তায় সময় লাগাতো না। মাদরাসার লেখাপড়া শেষ করে অাল্লাহর রাস্তায় এক সাল লাগালে সে নাস্তিক হতো না।

১৩. মুরিদ অব হাদিয়া পীর কুতুববাগী:
অামাদের হুজুরের দরবারে যদি সে নিয়মিত হাদিয়া নিয়ে অাসতো তাহলে হুজুর কেবলার নেকনজরের উসিলায় মাসুদ নবীর হাকীকী অাশেক হতে পারতো।

১৪. খলিফা অব অাল্লামা শফি হুজুর:
মাসুদ খালি বেশি বুঝতে চাইত, অতিরিক্ত প্রশ্ন করতো যা বেয়াদবির নামান্তর। বিনাযুক্তি ও বিনাপ্রশ্নে নবী কারিম (সা.) এর সব কথা মেনে নেয়ার নাম ঈমান। যুগশ্রেষ্ঠ বুজুর্গ অাল্লামা অাহমদ শফি হুজুরের সাথে বেয়াদবি করার কারণে অাল্লাহপাক তাকে ঈমানহারা করেছেন।

১৫. খলিফা অব পর্দাহুজুর হযরত মাওলানা অাবদুল মতিন ঢালকানগরী:
অামাদের শায়খ অাবদুল মতিন হুজুর দাড়িবিহীন বালক দেখলে পর্দা করেন, এটা দেখে সে হাসাহাসি করতো। ছেলেদের কাছ থেকে ছেলেদের পর্দা করা যে অনেক বেশি জরুরি, এটা শুধু অামাদের হযরতজীই বোঝেন। মাসুদ হযরতজীর পর্দার শানে বেয়াদবি মন্তব্য করার কারণে অাল্লাহপাক তাকে হালাক (ধ্বংস) করে দিয়েছেন।

শেয়ার

আপনার মন্তব্য করুন

Loading Facebook Comments ...